সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার: শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে জালে ডিবি

সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা গ্রেপ্তার: শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে জালে ডিবি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার জাল নথিপত্র তৈরি এবং বিজ্ঞ আদালতে ভুয়া সাক্ষ্য প্রদানের গুরুতর অভিযোগে সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার অর্থাৎ ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বর এলাকায় ঝটিকা নজরদারি চালিয়ে তাঁকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নেন। বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: বিপিডিবি সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার তোড়জোড়: ২ লাখের বেশি প্রার্থীর এমসিকিউ পরীক্ষা শীঘ্রই

গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক সূত্র মারফত জানা গেছে, সাবেক এই আমলা কক্সবাজার পর্যটন এলাকা থেকে ফ্লাইটে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। খবর পেয়ে বিমানবন্দর এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত সৈয়দ জগলুল পাশা কেবল একটি মামলায় জড়িত নন, বরং তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা ও নাশকতাসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগের মামলা রজু রয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, জগলুল পাশার বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়েরকৃত বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পারভেজ নামের এক শিক্ষার্থী হত্যা মামলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার আলোচিত 'অপারেশন ঈগল হান্ট' সংক্রান্ত মামলা এবং কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানায় বিএনপি নেতা আলতাব হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম আসামি তিনি।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান

ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ২০১৩ সালে রাজধানীর বনানীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে বালু ও বালুর ট্রাক রেখে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিতেও সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। জালিয়াতি ও নাশকতার মতো ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার পরবর্তী প্রয়োজনীয় সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাঁকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

সূত্র: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রেস ব্রিফিং।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন