হাইওয়ে পুলিশের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

হাইওয়ে পুলিশের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের জাতীয় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল রাখা এবং যাত্রীদের যাতায়াত নিরাপদ করার দায়িত্বে নিয়োজিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা সর্বমহলে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মহাসড়কগুলোতে নিয়মিত টহল পরিচালনা, অপরাধ দমন এবং যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করার জন্য এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় সফলভাবে দায়িত্ব পালন শেষে সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া এবং অন্য কর্মস্থলে পদায়নজনিত কারণে বিদায়ী কর্মকর্তাদের সম্মান জানানোর এই চমৎকার সংস্কৃতি পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সুদৃঢ় বন্ধন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলে। পেশাগত জীবনের এই রুটিন বদলি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যা উপস্থিত সকলের হৃদয়ে এক গভীর দাগ কেটে গেছে এবং সহকর্মীদের মাঝে এক সুদৃঢ় ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ডিআইজির বার্ষিক পরিদর্শন

ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি এবং হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে প্রাপ্ত দাপ্তরিক ও অনুসন্ধানী তথ্যাবলি থেকে বিস্তারিতভাবে জানা যায় যে, ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী আজকের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনটি অর্থাৎ ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের বৃহস্পতিবার দুপুর ২.০০ ঘটিকায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সুসজ্জিত সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বদলি হওয়া এবং বিদায়ী অতিথিরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ এক সুশৃঙ্খল, গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং আনন্দ-বেদনার মিশ্রিত এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়েছিল, যেখানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন। সুনির্দিষ্ট সময়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শুরু হওয়া এই আয়োজনের মাধ্যমে বিদায়ী কর্মকর্তাদের বিগত দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তাদের ভবিষ্যতের পথচলাকে আরও সুন্দর করার শুভকামনা জানানো হয়।

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অত্যন্ত সুনামের সাথে সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করেন হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অ্যাডিশনাল আইজি জনাব ফারুক আহমেদ, যাঁর সুযোগ্য ও গতিশীল দিকনির্দেশনায় পুরো অনুষ্ঠানটি এক অন্যরকম উচ্চতা লাভ করেছিল। সভাপতির সাবলীল ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বিদায়ী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব এবং তাদের কর্মকালীন সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং হাইওয়ে পুলিশের সামগ্রিক মানোন্নয়নে তাদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অতিথি হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন—ফরিদা ইয়াসমিন, বিপিএম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন), হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা; মীর মোদদাছ্ছের হোসেন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস্-পশ্চিম), হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা; মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়ন; এবং মো. রেজাউল করিম, পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়ন। এছাড়া পুরো অনুষ্ঠানটির অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এবং পুলিশ সুপার (প্রশাসন-ভারপ্রাপ্ত) জনাব মো. রুহুল আমীন।

আরও পড়ুন: চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ৯ কেজি গাঁজাসহ দুই বোনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ-পুলিশ

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে যখন বিদায়ী অতিথিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সহকর্মীরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করা শুরু করেন, তখন পুরো সম্মেলন কক্ষে এক আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বক্তব্য প্রদানকালে বিদায়ী কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা, অসামান্য মানবিক গুণাবলি, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার অদম্য নেতৃত্ব এবং আপসহীন পেশাদারিত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন। বক্তারা বলেন যে, এই বিদায়ী কর্মকর্তারা তাঁদের কর্মকালীন সময়ে যেভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, তা জুনিয়র অফিসার ও কনস্টেবলদের জন্য সবসময় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বিদায়ী অতিথিগণও তাঁদের নিজস্ব বক্তব্যে হাইওয়ে পুলিশের কর্মকালীন সময়ে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভাবনীয় সহযোগিতা, অগাধ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যেখানেই দায়িত্ব পালন করবেন, সেখান থেকে এই বাহিনীর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে এক অত্যন্ত আনন্দঘন ও সম্মানজনক পরিবেশে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী অতিথিদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়, যা তাঁদের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের এক অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। সম্মাননা স্মারক গ্রহণের সময় বিদায়ী কর্মকর্তাদের মুখে যেমন ছিল কাজের সফলতার তৃপ্তি, তেমনি ছিল সহকর্মীদের ছেড়ে যাওয়ার এক অদৃশ্য বেদনা, যা উপস্থিত প্রতিটি মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এই মহতি আয়োজনে হাইওয়ে পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ছাড়াও হেডকোয়ার্টার্সের বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার বিপুলসংখ্যক সদস্য অত্যন্ত উৎসাহের সাথে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও উৎসাহমূলক কার্যক্রম কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কাজের স্পৃহা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।

পরিশেষে বলা যায়, হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এই বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কেবল একটি দাপ্তরিক রুটিন প্রোগ্রাম ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন। বিদায়ী কর্মকর্তাদের সফল ও কর্মমুখর জীবনের ধারাবাহিকতা যেন আগামী দিনেও একইভাবে বজায় থাকে এবং তাদের হাত ধরে দেশের জনসেবা আরও বেশি শাণিত হয়, সেটাই সকলের ঐকান্তিক প্রত্যাশা। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের নান্দনিক ও প্রীতিকর আয়োজন পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মনোবলকে সবসময় চাঙ্গা রাখবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও সুদৃঢ় করবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পেশাগত সততা এবং দেশপ্রেমই একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার প্রধান শর্ত হিসেবে সবসময় কাজ করবে।

সূত্র: হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেল ও প্রেস নোট।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন