প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের নিয়মিত তদারকি ও সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম পর্যালোচনায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ জেলা পুলিশ লাইন্সে বার্ষিক পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। বৃহস্পতিবার এই পরিদর্শন কর্মসূচিতে তিনি প্যারেডে সালামী গ্রহণ করেন, রিজার্ভ অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
জেলা পুলিশ লাইন্সের মাঠে আয়োজিত বার্ষিক পরিদর্শন প্যারেডে ডিআইজি মহোদয় সালামী গ্রহণ করেন। এ সময় সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম বার উপস্থিত থেকে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। প্যারেড পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান। প্যারেডে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে অংশ নেন এবং তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত
প্যারেড শেষে ডিআইজি মহোদয় রিজার্ভ অফিস পরিদর্শন করেন। তিনি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নথিপত্রের সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরামর্শ দেন।
বার্ষিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পুলিশ লাইন্সে একটি বিশেষ কল্যাণ সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ। সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু। সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে ডিআইজি মহোদয় পুলিশ সদস্যদের সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। জনবান্ধব পুলিশিং বাস্তবায়নে সকলকে আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ডিআইজি মহোদয় সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং তাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ডিআইজি মহোদয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি সকল সদস্যকে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জেলা পুলিশের যানবাহন সংকট, আবাসন সমস্যাসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার বিষয়ে তিনি ডিআইজি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সমাধানে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
সভায় উত্তম কাজ ও কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা পুলিশের ষোল জন সদস্যকে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া এক নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব পালনের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি মোটরসাইকেল এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে ব্যবহারের জন্য ক্রোকারিজ সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। এই পুরস্কার ও উপহার সামগ্রী সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন ও অর্থ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস মো. হাফিজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলা পুলিশের নিয়মিত পরিদর্শন ও কল্যাণ সভা পুলিশ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের অবস্থা সরাসরি অবলোকন করতে পারেন এবং সদস্যদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেন। আজকের এই পরিদর্শন ও সভা সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত নিরলসভাবে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং কর্মস্পৃহা অটুট রাখা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। ডিআইজি মহোদয়ের এই পরিদর্শন সেই দায়িত্ব পালনেরই অংশ। তিনি পুলিশ সদস্যদের কথা শুনে তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জনবান্ধব পুলিশিং ধারণা বাস্তবায়নে পুলিশ সদস্যদের মানসিকতা ও আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিআইজি মহোদয় তার বক্তব্যে এই বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা ও পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও মনোযোগী হতে হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা যেমন যানবাহন সংকট ও আবাসন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। পুলিশ সুপার মহোদয় এই বিষয়গুলো ডিআইজি মহোদয়ের সামনে তুলে ধরে সমাধানের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় এসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তম কাজের স্বীকৃতি পেলে কর্মস্পৃহা বাড়ে এবং অন্যরাও অনুপ্রাণিত হন। মোটরসাইকেল ও ক্রোকারিজ সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পুলিশ সদস্যদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে।
জেলা পুলিশের নিয়মিত পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের আরও সচেতন করে তোলে। আজকের পরিদর্শন সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে।
পুলিশ বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল চালিকাশক্তি। তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন। ডিআইজি মহোদয়ের এই সফর সেই লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যা সদস্যদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে এই পরিদর্শনের ফলাফল ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি লক্ষ্য করা হবে। জেলা পুলিশ প্রশাসন ডিআইজি মহোদয়ের দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সিরাজগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।