মির্জা ফখরুলকে ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

মির্জা ফখরুলকে ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার পথে আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা পেয়েছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ইরানের মহামান্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের এই প্রবীণ ও দূরদর্শী নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে তার অনন্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আগামী দিনে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে এই বার্তার মাধ্যমে, যা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার প্রেরিত অভিনন্দন বার্তায় অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই নতুন নেতৃত্ব দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অগ্রগতির এক নতুন ও সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করবে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং জনগণের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দেশের শাসনব্যবষ্টাকে আরও বেশি জনবান্ধব ও শক্তিশালী করে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন নেতৃত্বের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে একশত ষাট পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বাংলাদেশ ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি সম্প্রসারিত করা অত্যন্ত জরুরি। সংস্কৃতি, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে উভয়ের পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও মেলবন্ধন বৃদ্ধিতে তেহরান সবসময় ঢাকার পাশে থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য বাংলাদেশ এবং ইরানের যৌথ প্রচেষ্টা বিশ্বমঞ্চে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক কূটনীতির এই উষ্ণ বার্তা দুই দেশের বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও বেশি নিবিড় ও যুগোপযোগী করে তুলতে সাহায্য করবে বলে উভয় দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বার্তার শেষাংশে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনৈতিক শীর্ষনেতা হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং তার ওপর অর্পিত মহান দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ অর্জিত হোক সেই কামনাও ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং স্বাধীন বৈদেশিক নীতির কারণে বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর এই ধরনের কূটনৈতিক শুভেচ্ছা বার্তা দেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। শাহজাদপুরসহ সারা দেশের রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বন্ধুরাষ্ট্রের এমন ইতিবাচক সাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেশি গতিশীল ও বিশ্বস্ত করে তুলবে।

প্রতিবেদনের সূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও কূটনৈতিক সূত্র।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন