ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা ডিএনসিসি প্রশাসকের
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকাকে দীর্ঘদিনের দূষণ, কংক্রিটের জঙ্গল ও অব্যবস্থাপনার হাত থেকে মুক্ত করে একটি সত্যিকার অর্থেই আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার এক যুগান্তকারী ও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সুযোগ্য প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। অতি সম্প্রতি রাজধানী উত্তরার বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও কৌশলগত এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনকালে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুদূরপ্রসারী ঘোষণা প্রদান করেন। আধুনিক নগরায়ণের নানা চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য করে তোলার এই উদ্যোগটি স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবিদদের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও গাছপালা নিধনের ফলে যে পরিবেশগত সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান স্বয়ং উপস্থিত থেকে উত্তরা এলাকার নির্ধারিত ভূখণ্ডে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। চারা রোপণ শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন যে, অপরিকল্পিতভাবে কংক্রিটের বহুতল ভবন এবং ইটের দেওয়াল তোলার প্রতিযোগিতায় ঢাকা শহর আজ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাণপ্রাচুর্য হারাতে বসেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শুধুমাত্র মুখের বুলি বা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত সবুজায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ডিএনসিসির আওতাধীন প্রতিটি এলাকায় ফাঁকা স্থান, সড়কের বিভাজক এবং পার্কগুলোতে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে।

বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি রাজধানীর সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। তিনি তার বক্তব্যে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলেন যে, কেবল সিটি করপোরেশনের একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমেই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়, যদি না সাধারণ নগরবাসীরা এ বিষয়ে নিজেরা সচেতন হন। রাস্তার যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যবহার করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আটকে ফেলা এবং পরিবেশ নষ্ট করার মতো ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে প্রতিটি নাগরিককে বেরিয়ে আসতে হবে। নাগরিকদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরিচ্ছন্নতা এবং সবুজায়ন কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বড় উদ্যোগই সফল হতে পারে না।

আরও পড়ুন: কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে প্রত্যাবর্তন

পরিবেশ রক্ষা এবং নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির এই বিশাল কর্মযজ্ঞে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশীদারিত্বের ওপর আলোকপাত করে শফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন যে, ঢাকা শহর আমাদের সকলের ঘর। এই ঘরের চারপাশ সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখার দায়িত্বও আমাদের সবার ওপর সমানভাবে বর্তায়। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দূষণমুক্ত, নির্মল বায়ুসমৃদ্ধ এবং নান্দনিক রাজধানী উপহার দিতে ডিএনসিসি প্রশাসন সবসময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ সমাজ, যুব সংগঠন এবং বেসরকারি সংস্থাসমূহকে নিজ উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকার আশপাশে গাছ লাগাতে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সম্মিলিত প্রচেষ্টার এই শক্তির মাধ্যমেই ঢাকাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ডিএনসিসি প্রশাসক উত্তরা এলাকাসহ উত্তর সিটি করপোরেশনের পুরো অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। রোপণকৃত গাছগুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং বড় হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পানি ও সার দেওয়ার বিষয়টি মনিটরিং করার জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। রাজধানী ঢাকাকে একটি জনবান্ধব ও সবুজ জনপদে রূপান্তর করার এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে স্থানীয় বাসিন্দারাও সাধুবাদ জানিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ার এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে কোনো বাধা যেন সৃষ্টি হতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন ও জনগণের যৌথ সহযোগিতা সর্বদা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিবেশে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিবেদনের সূত্র: ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ ও পরিবেশ বিষয়ক সংবাদ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন