রাজধানীতে ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীতে ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মহানগরীসহ সমগ্র দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এবং প্রাণঘাতী পানিবাহিত রোগ কলেরা ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব চিরতরে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অত্যন্ত যুগোপযোগী, সুদূরপ্রসারী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা বর্তমান জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির অন্যতম একটি প্রধান অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার এই ধারাবাহিক আভিযানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে, যা দেশের চিকিৎসা ইতিহাস ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সরকারের এই মহতি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও সচেতনতার সৃষ্টি করেছে এবং স্বাস্থ্যখাতে আস্থার মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে ৬৪ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ঘটনার সম্পূর্ণ পটভূমি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত দাপ্তরিক ও অনুসন্ধানী তথ্যাবলি থেকে বিস্তারিতভাবে জানা যায় যে, ক্যালেন্ডারের পাতা অনুযায়ী ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের আজকের এই বিশেষ দিনে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও এলাকার অত্যন্ত পরিচিত ও জনবহুল ভেন্যু হিসেবে খ্যাত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বৃহৎ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’, যার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে মারাত্মক এই পানিবাহিত রোগের হাত থেকে সুরক্ষিত করার জন্য মুখে খাওয়ার কলেরা টিকার আওতায় নিয়ে আসার বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।

উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। প্রধান অতিথির সাবলীল, গতিশীল ও অনুপ্রেরণাদায়ক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান মঞ্চ ও প্যান্ডেল এক অন্যরকম উচ্চতা লাভ করে, যেখানে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেশের জনস্বাস্থ্য খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত তাঁর সুদীর্ঘ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে কেবল টিকাদানের ওপরই নির্ভর না করে বরং পানিবাহিত রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকার জন্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং জীবনঘনিষ্ঠ ৩টি মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তাঁর এই সময়োপযোগী পরামর্শগুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে উপস্থিত সকল বিশিষ্টজনেরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ১০০ কেজি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ ও ধ্বংস

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত পানিবাহিত রোগ থেকে বাঁচার জন্য যে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির কথা বিশদভাবে উল্লেখ করেছেন, তার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো নিরাপদ পানির সুনিশ্চিত ব্যবহার। তিনি অত্যন্ত জোراলো ভাষায় বলেন যে, খাওয়ার কাজে, রান্নাবান্নার কাজে এবং দৈনন্দিন গৃহস্থালির প্রতিটি ছোটোবড় কাজে শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং তার সঠিক সংরক্ষণ বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি হিসেবে তিনি হাত ধোয়ার সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক ‘ওয়াশ’ (WASH) নির্দেশিকা বা গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে নিয়মিত এবং সাবান দিয়ে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার চর্চা বাড়াতে হবে। তৃতীয় ও শেষ স্বাস্থ্যবিধি হিসেবে তিনি স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, যত্রতত্র বা খোলা স্থানে মলত্যাগ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে এবং সারা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বের দায়িত্ব এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি সম্পর্কে দাপ্তরিক সূত্রে আরও জানা যায় যে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভার সভাপতিত্ব করেছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তাঁর সুযোগ্য পরিচালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যা আয়োজকদের কাজের মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশি-বিদেশি অসংখ্য প্রখ্যাত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (icddr,b) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ সরকারের এই মহতি উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং কলেরা নির্মূলের এই কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

পরিশেষে বলা যায়, তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের হাত ধরে উদযাপিত ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দেশের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক উজ্জ্বল মাইলফলক। শুধু টিকাদান কর্মসূচিই নয়, বরং এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনের প্রধান শর্ত। আমরা আশা করি, এই ক্যাম্পেইনের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশ থেকে কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব চিরতরে দূর করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ একটি নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা, সরকারের আন্তরিক সদিচ্ছা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের মাধ্যমেই কেবল একটি সুস্থ, রোগমুক্ত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে।

সূত্র: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রেস উইং ও সংবাদাতা।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন