প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় নিজ বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন ও পেটে লাথি মারার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবকের অমানবিক লাথির আঘাতে ভুক্তভোগী ওই নারীর পাঁচ মাসের গর্ভস্থ সন্তান অকালে প্রাণ হারিয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে তাড়াইল উপজেলার পংপাচিহা গ্রামে। এই ঘটনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ওই নারী বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত নালিশ দায়ের করেছেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে সমগ্র এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও এলাকার বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার সেকান্দরনগর বাগপাড়া এলাকার অধিবাসী সারজুল মিয়ার ছেলে কবির মিয়া তাঁর কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে পংপাচিহা গ্রামের বাবুল শেখের স্ত্রী জ্যোতি বেগমের (৩০) বাবার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত থাকা জ্যোতি বেগমের সাথে কবির মিয়া ও তাঁর লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কবির মিয়া মারাত্মক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কোনো কিছু বিবেচনা না করে পাঁচ মাসের গর্ভবতী জ্যোতি বেগমের তলপেটে সজোরে তীব্র লাথি মারেন।
আরও পড়ুন: যশোরে পারিবারিক বিরোধে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ছেলে পলাতক
আঘাতের তীব্রতায় সংবেদনশীল অবস্থায় থাকা জ্যোতি বেগম প্রচণ্ড পেটের ব্যথায় চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে তৎক্ষণাৎ তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা অতি দ্রুত তাঁকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান যে, আঘাতের তীব্রতায় গর্ভস্থ ৫ মাসের শিশুটি পেটের ভেতরেই মারা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর গত ২৪ আগস্ট ভুক্তভোগী জ্যোতি বেগম বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত নালিশ জমা দেন। অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত কবির মিয়া (২২) ছাড়াও তাঁর বাবা সারজুল মিয়া (৪৫), স্থানীয় বাসিন্দা চুন্নু মিয়া, পায়েল (২০), আবু হানিফ (৩৪) ও মোছা. জৈয়তন আক্তারকে (৪০) আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে এই অপকর্ম সংঘটিত করেছে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ জব্দ, আটক এক
এলাকার মানুষের মুখে দাবি উঠে এসেছে যে, প্রধান অভিযুক্ত কবির মিয়া পূর্বে থেকেই নানা অপকর্ম ও অসদাচরণের সাথে জড়িত। তবে তাঁর বিষয়ে তোলা এসব বক্তব্যের কোনো প্রশাসনিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সত্যতা তদন্ত ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের সার্বিক তদন্তের পরেই এসব বিষয়ের আসল সত্যতা উন্মোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত কবির মিয়ার বসতবাড়িতে গিয়ে কোনো স্বজনকে পাওয়া যায়নি এবং বসতঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানিয়েছেন, প্রাপ্ত নালিশটি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্তপ্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অপরাধের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় অধিবাসীরাও ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: নিজস্ব সংগ্রাহক ও পুলিশ প্রশাসন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।