লংমার্চের ১ লাখ লিটার তেল নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর

লংমার্চের ১ লাখ লিটার তেল নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রখ্যাত জিয়া উদ্যানে স্বাধীন বাংলাদেশের বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পবিত্র মাজার শরিফে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) মধ্যাহ্নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মান্যবর প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই প্রথাগত শ্রদ্ধা অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত দেশি-বিদেশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি খাতের বাস্তব অবস্থা এবং বিরোধীদের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে পরীক্ষার হলে জালিয়াতি, ভিডিও করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা

দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি গণমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক প্রশ্ন তুলে ধরে বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিরোধী দল ও রাজনৈতিক জোটসমূহের পক্ষ থেকে একটি বহুল প্রচারিত 'লং মার্চ' কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক লং মার্চ বাস্তবায়নে যে বিপুল সংখ্যক বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়োজিত করা হচ্ছে, তাতে ধারণানুযায়ী প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেলের প্রয়োজন পড়বে। প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, দেশে যদি বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী সত্যি মারাত্মক জ্বালানি সংকট বিদ্যমান থাকে, তবে এই লং মার্চ সফল করতে তাদের জন্য এই বিশাল পরিমাণের প্রায় এক লাখ লিটার তেল কোথা থেকে কীভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে? এই স্ববিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সারাদেশে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী পক্ষগুলোর ঢালাও অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী তীব্র কটাক্ষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিরোধীরা যখনই রাজনৈতিক জনসভা বা প্রতিবাদ মঞ্চ গড়ে তোলে, সেখানে দেখা যায় মঞ্চের পেছনে সারিবদ্ধভাবে উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক ফ্যান, শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জা অনবরত সচল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সেই একই মঞ্চের মাইকে দাঁড়িয়ে তারা বিদ্যুৎ নেই বলে দেশজুড়ে মিথ্যা বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। রাজপথের মঞ্চে নিজেদের সমস্ত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও বিলাসিতা বহাল রেখে বিদ্যুতের অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার এই দ্বৈত নীতি সচেতন নাগরিকদের গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত বলে তিনি বিশেষভাবে পরামর্শ দেন।

আরও পড়ুন: প্রতারণার কষ্টে দুধ দিয়ে গোসল করে প্রেমের ইতি টানলেন জয়পুরহাটের যুবক

সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়, সে বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন মীর শাহে আলম। তিনি জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকার অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সাধারণ জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সত্তেও দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই ও স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। জ্বালানি খাতের আমূল সংস্কার ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানামুখী কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের শেষপর্যায়ে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন মন্ত্রী। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেন যে, চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই দেশের সমস্ত স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন দেশের তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন গতি পাবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও মজবুত হবে বলে বিশ্বাস ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক ও রাজনৈতিক ডেস্ক।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন