মাদারীপুরের রাজৈরে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

মাদারীপুরের রাজৈরে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং অপরাধের শেকড় সমাজ থেকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর ও জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মাদক কারবারিদের আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ মাদকের মরন নেশা থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করতে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিতভাবে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আসছে। অপরাধ দমনের এই ধারাবাহিক ও অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জনপদ মাদারীপুর জেলাজুড়ে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। জেলা পুলিশের শীর্ষপর্যায়ের নির্দেশনার আলোকে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে একজন নারী মাদক কারবারিকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর ইয়াবা বড়িসহ হাতেনাতে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই সফল অভিযানটি মাদারীপুর জেলার অপরাধ জগতের সিন্ডিকেটগুলোতে এক বিরাট ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

আরও পড়ুন: বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: বরগুনার পাথরঘাটায় ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মাদারীপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এই বিশেষ অভিযানটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের অবৈধ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার চৌকস অফিসার ও ফোর্সদের একটি বিশেষ দল মাঠে নেমেছিল। গত পঁচিশ আগস্ট তারিখে সপ্তাহের একটি কর্মব্যস্ত সকালে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে ছিল। নির্দিষ্ট ওই দিন সকালের দিকে ঘড়ির কাঁটায় যখন আটটা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট বাজছিল, ঠিক সেই সময়ই মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার অন্তর্গত এলাকাধীন একটি বিশেষ পয়েন্টে এই নাটকীয় গ্রেপ্তার অভিযান বাস্তবায়িত হয়। অত্যন্ত সুকৌশলে পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার চমৎকার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অভিযানের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন অত্যন্ত ব্যস্ততম সানেরপাড় এলাকার মেসার্স এস আর ফিলিং স্টেশনের সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপরের অংশটিকে। দেশের দক্ষিণ জনপদের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহন ও যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকেন, যা মাদক চোরাচালানের জন্য অনেক সময় অপরাধীরা বেছে নেয়। ওই স্থানে সন্দেহভাজন এক নারীর গতিবিধি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলেন এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কঠোর ও নিয়মমাফিক পরিচালিত ওই তল্লাশি অভিযানে তার ব্যক্তিগত দখল বা হেফাজত থেকে মোট পাঁচশত পিস অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই বিশাল পরিমাণ ইয়াবা বড়িগুলো অত্যন্ত সুচতুরভাবে লুকিয়ে বহন করা হচ্ছিল, যা পরবর্তীতে জব্দতালিকা প্রস্তুত করে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ছেলের মৃত্যুর খবরে মায়েরও মৃত্যু, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে

এই মাদকবিরোধী অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়া অভিযুক্ত নারীর বিস্তারিত পরিচয় পরবর্তীতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আটক হওয়া এই নারী মাদক ব্যবসায়ীর নাম মায়া আক্তার যুথি, যাকে অনেকে জ্যোতি নামেও চিনে থাকেন এবং তার বর্তমান বয়স আনুমানিক তেইশ বছর বলে জানা গেছে। পুলিশি নথিপত্র ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে তার পিতার নাম হারুন মোল্লা এবং মাতার নাম মালেকা বেগম, আর তার পারিবারিক সূত্রে স্বামীর নাম মুন্না ফরাজী। তাদের বর্তমান ও স্থায়ী আবাসিক ঠিকানা হিসেবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার অন্তর্গত এলাকার নয় নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর সংলগ্ন এলাকা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য কোনো জেলা থেকে এসে সুদূর মাদারীপুরের রাজৈর এলাকায় এই ধরনের বড় ধরনের মাদক চালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এবং মহাসড়কের মতো জনবহুল স্থানকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি পুলিশের কঠোর জেরার মুখে উন্মোচিত হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ওই নারী কারবারি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং এই কারবারের পেছনে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কেও কিছু তথ্য দিয়েছেন। জব্দকৃত পাঁচশত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তাকে আটকের পর রাজৈর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে আইনানুগ সমস্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার পর তাকে নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদারীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে জানানো হয়েছে যে কেবল এই একজন নারী কারবারিকেই নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটের শেকড় কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে তা উদঘাটন করতে তদন্ত আরও দীর্ঘায়িত করা হবে।

মাদারীপুর জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে সমাজে অপরাধের বিষবৃক্ষ রোপণকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের মাদক চোরাচালান, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখা হবে। সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। সচেতন নাগরিক সমাজ পুলিশের এই সাহসী ও সময়োপযোগী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এই ধরনের অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, মাদারীপুরের রাজৈর থানা এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সফল অভিযানে পাঁচশত পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি মায়া আক্তার যুথির গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাদকের বিরুদ্ধে এই ধরনের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান পরিচালনার ফলে অপরাধীদের অবৈধ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সমাজে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসছে। আমরা আশা করি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং দেশ থেকে মাদক নামক অভিশাপ চিরতরে দূর হবে। প্রশাসনের এই নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতার ফলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের পুরো সমাজ একটি নিরাপদ, সুস্থ ও প্রগতিশীল জনপদে রূপান্তরিত হতে পারবে—এটাই দেশের আপামর জনসাধারণের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

প্রতিবেদনের সূত্র: মাদারীপুর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন