মালয়েশিয়ায় ২ লাখ শ্রমিক নিয়োগ ও ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা

মালয়েশিয়ায় ২ লাখ শ্রমিক নিয়োগ ও ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রগতিশীল দেশ এবং বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বৈদেশীক শ্রমবাজার মালয়েশিয়া থেকে দেশের কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি খাতের জন্য একটি বহুল প্রতিক্ষিত, আশাব্যঞ্জক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ পরিশ্রমী, প্রতিশ্রুতিশীল ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে দেশটি। বৈদেশীক শ্রমবাজারের ইতিহাসে অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এই বিশালসংখ্যক অভিবাসী শ্রমশক্তির মধ্য থেকে অন্তত ১০ হাজার শ্রমিককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অর্থাৎ কোনো প্রকার অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের রূপান্তরশীল অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তি এবং আন্তর্জাতিক মানের সড়ক অবকাঠামো নির্মাণসহ একাধিক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) করার সুদৃঢ় ও প্রকাশ্য অভিপ্রায় প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকালের দিকে রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার মান্যবর রাষ্ট্রদূতের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

আরও পড়ুন: সংসদে ভূমি অফিসে ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড়, মন্ত্রীর জবাব

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিগন্তগুলো বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ও নতুন গমনেচ্ছ অভিবাসী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবিধান, প্রবাসে যাওয়ার খরচ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে শতভাগ স্বচ্ছতা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে ঢাকা ও পুত্রাজায়া ঐকমত্যে পৌঁছেছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যে আনুমানিক দুই লাখ নতুন কর্মী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণ, শিল্প ও সেবা খাতে যুক্ত হতে যাচ্ছেন, তাঁদের নিয়োগ কার্যক্রম যাতে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ অসাধু সিন্ডিকেট কিংবা সুযোগসন্ধানী দালালদের চক্রের হাতে পড়ে বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যাপারে দুই দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক মহলের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি রাখা হবে। বিশেষ করে যে ১০ হাজার নির্বাচিত শ্রমিককে কোনো ফি ছাড়াই ফ্রিতে পাঠাবে সরকার, তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক তালিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।

বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের এই সুবর্ণ দুয়ার উন্মোচন দেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে এক অভূতপূর্ব নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন। এছাড়া, বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে উপস্থাপিত প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশের অবকাঠামোগত ভিত্তি মজবুত করতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিবেশবান্ধব সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে মালয়েশীয় উদ্যোক্তারা প্রস্তুত রয়েছেন। এই সুদূরপ্রসারী যৌথ অর্থায়ন দ্রুত রূপ পেলে দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কারিগরি দক্ষ যুবকদের কাজের সুযোগ অবারিত হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করবে।

আরও পড়ুন: প্রতারণার কষ্টে দুধ দিয়ে গোসল করে প্রেমের ইতি টানলেন জয়পুরহাটের যুবক

এদিকে, একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাজধানী ঢাকা শহরের দীর্ঘদিনের প্রধান নাগরিক সমস্যা যানজট নিরাময় এবং সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নতুন একটি প্রশাসনিক পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার অলিগলি ও প্রধান সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খলভাবে রিকশা চলাচল বন্ধে এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট রঙ বা কালার কোডিং এবং সোলার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী বিধিমালা দ্রুত চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এই নীতিমালা বলবৎ হলে এক জোনের ব্যাটারিচালিত রিকশা অন্য জোনে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করতে পারবে না, যা যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ব্যাটারিচালিত এসব যানবাহনের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সোলারভিত্তিক আধুনিক চার্জিং হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর কোনো অতিরিক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি হবে না এবং পরিবেশ সুসংরক্ষিত থাকবে। সুনির্দিষ্ট রঙ নির্ধারণ এবং সৌরশক্তির সদ্ব্যবহার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নগর পরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। সার্বিকভাবে, মালয়েশিয়ার এই বিশাল কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও মালয়েশীয় দূতাবাস।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন