রাজশাহীতে বাকবিতণ্ডা ও মারধরে রিকশাচালক পলাশের মৃত্যু, হত্যা মামলার এজাহার দাখিল

রাজশাহীতে বাকবিতণ্ডা ও মারধরে রিকশাচালক পলাশের মৃত্যু, হত্যা মামলার এজাহার দাখিল
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

রাজশাহী মহানগরীতে স্থান সংকুলান ও রিকশা পজিশন করাকে কেন্দ্র করে ক্ষণিক উত্তেজনার জেরে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নগরীর ব্যস্ততম মালোপাড়া মোড় এলাকায় বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পর পলাশ (৪৫) নামের এক পেশাদার রিকশাচালকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। নিহত পলাশ নগরীর রাজারহাতা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে নিহতের পরিবার ও স্বজনেরা হত্যা মামলার আর্জি জানিয়ে স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে এজাহার দাখিল করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রেমের টানে লালমনিরহাট থেকে শাহজাদপুরে এসে গভীর রাতে জনতা হাতে আটক ছাত্র

সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ও বোয়ালিয়া মডেল থানা সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিষদ পটভূমি নিশ্চিত হওয়া গেছে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম ঘটনাবলি সম্পর্কে অবহিত করে জানান যে, রিকশাচালক পলাশ শারীরিকভাবে অসুস্থ অনুভব করছিলেন। তিনি শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে নিজের রক্তচাপ পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) রাত্রিকালীন সময়ে মালোপাড়া মোড়ের একটি ফার্মেসিতে গমন করেন। ওই ফার্মেসির সম্মুখে তিনি নিজের ব্যবহৃত রিকশাটি দাঁড় করালে সাময়িকভাবে ওই রাস্তায় কিছুটা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা ও যানজটের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যবৃন্দ

তৎক্ষণাৎ ঔষধ দোকানের পাশেই অবস্থিত 'সীমান্ত হোমিও হল' নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও তাঁর কর্মচারীরা রাস্তার ওপর থেকে দ্রুত রিকশাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পলাশকে উচ্চবাচ্য ও তাগাদা প্রদান করেন। এই রিকশা সরানোর নির্দেশ ও সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের রূপ নেয়। বাকবিতণ্ডার খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিশৃঙ্খলা নিরসন ও পরিবেশ মীমাংসা করে দেয়। তবে ততক্ষণে চরম শারীরিক ধকল ও মারধরের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন রিকশাচালক পলাশ।

পরিস্থিতি বেসামাল দেখে স্থানীয় সংবেদনশীল নাগরিকেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রিকশাচালক পলাশকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই করুণ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের মাঝে শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে আসে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিহতের স্বজনেরা প্রয়াণের পেছনে মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার পেশ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে।

সূত্র: বোয়ালিয়া মডেল থানা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন