১/১১-তে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে তারেক রহমানকে বন্দি রাখার তথ্য প্রকাশ

১/১১-তে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে তারেক রহমানকে বন্দি রাখার তথ্য প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

একইগারোর (১/১১) সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) বিতর্কিত ও গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) ডিজিএফআইয়ের অধীনস্ত উক্ত গোপন আটক কেন্দ্র সরজমিনে পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই পর্যবেক্ষণমূলক বক্তব্য ও প্রমাণের কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: হোর্হে মেসির প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ফুটবল বিশ্ব, বার্সা ও রিয়ালের সমবেদনা

ডিজিএফআইয়ের গোপন সেলে আভিযানিক পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেন যে, ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদ তারেক রহমানকে বেআইনিভাবে তুলে এনে ওই গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়েছিল। প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতার ওপর পরিচালিত নির্যাতনের বিষয়ে তদন্তকারী দল যথেষ্ট পরিমাণ সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রশাসনিক সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। এই ঘটনা তৎকালীন শাসনব্যবস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র প্রতিফলিত করে।

আরও পড়ুন: ১২ আগস্ট ফের লন্ডন যাচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চিকিৎসকদের আশার বাণী

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কোনো নির্দিষ্ট আইনের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ক্ষমতার জোরে ধরে এনে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল বা জেআইসি নামক নির্যাতন কেন্দ্রে সম্পূর্ণ অমানবিক ও বীভৎস পরিস্থিতিতে আটকে রাখা হতো। তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার জন্য সেখানে রক্ষিত স্পর্শকাতর অনেক নথিপত্র ও আলামত ইতোমধ্যে নষ্ট করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় যেকোনো অপরাধের প্রতিকারে প্রচলিত আইনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উচিত, তবে বিচারবহির্ভূতভাবে কাউকে এভাবে নির্জন প্রকোষ্ঠে বন্দি রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ।

আইনি প্রক্রিয়ার গতিধারা তুলে ধরে তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অতীতে সংঘটিত প্রতিটি বেআইনি আটক ও নির্যাতনের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে যাদেরই মানবতাবিরোধী কিংবা বিচারবহির্ভূত এমন গর্হিত কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ও প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের প্রত্যেককেই কঠোরভাবে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন দল।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন