প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
কক্সবাজার জেলার সীমান্তঘেঁষা অন্যতম কৌশলগত এলাকা উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এক চৌকস দলের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মারাত্মক মাদকদ্রব্য ইয়াবাসহ এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনুমানিক সন্ধ্যার দিকে বালুখালী সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর অঞ্চলে পরিচালনা করা এই অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার পিস উগ্র নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়কের কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফল অভিযান ও মাদক আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। গোপন গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের একটি বড় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
আরও পড়ুন: ভারতের কেরালায় লরির পেছনে গাড়ির ধাক্কায় ৮ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আটক হওয়া ব্যক্তির নাম মো. কামাল (৩৩)। তিনি উখিয়া উপজেলার ৫ নম্বর পালংখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত বালুখালী জমিদারপাড়া এলাকার অধিবাসী কবির আহমেদের সন্তান। প্রেস বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে—এমন এক সুনির্দিষ্ট ও গোপন তথ্য হাতে পায় ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল। সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথেই বিজিবির স্পেশাল টিম কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে বালুখালী বিওপির আওতাধীন এলাকার সীমান্ত সংলগ্ন কাটাপাহাড় শাহজাহানের মাছের ঘের এলাকায় সুকৌশলে ওড়া পেতে অবস্থান গ্রহণ করে।
শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উক্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমারের দিক থেকে এক তরুণকে সন্দেহজনক অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের দিকে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি টহল দল। ওই ব্যক্তির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বিজিবি জওয়ানরা তাকে অবিলম্বে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান। বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে উক্ত ব্যক্তি সাথে থাকা পলিথিনের ব্যাগসহ দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবির স্পেশাল টহল দল তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং ধাওয়া করে করায়ত্ত করতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে চরাঞ্চলে গৃহবধূর নিথর দেহ উদ্ধার, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ
পরবর্তীতে স্থানীয় অধিবাসীদের উপস্থিতিতে আটককৃত কামালের সাথে থাকা একটি কালো রঙের পলিথিনের ব্যাগ নিবিড়ভাবে তল্লাশি চালানো হয়। উক্ত পলিথিন ব্যাগটির ভেতরে বিশেষভাবে রক্ষিত খাকি প্যাকেটে মোড়ানো চারটি নীল রঙের কার্টন পাওয়া যায়। এসব কার্টন সাবধানে খুলে গণনা করে বিজিবি সদস্যরা মোট ৪০ হাজার পিস উগ্র নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেন। প্রাথমিক আইনি জিজ্ঞাসাবাদে কামাল স্বীকার করেন যে, তিনি অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে কম দামে এই ইয়াবার চালানটি ক্রয় করেছিলেন এবং তা দেশের ভেতরে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহনের পরিকল্পনা করছিলেন।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত মো. কামাল স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফোরকান চৌধুরীর আপন চাচাতো ভাই। স্থানীয়দের কিছু তথ্যে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, অভিযানের সময় ফোরকান চৌধুরীর আরেক এক ভাই সশরীরে অকুস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে সীমান্তে বিজিবির আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি চতুরতার সাথে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। অবশ্য বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোরকান চৌধুরীর সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উখিয়া সীমান্ত অঞ্চলে মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তার ও চোরাচালান বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিজিবি প্রশাসন। বিজিবির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মাদক সরবরাহের সাথে যুক্ত অন্যান্য চোরাকারবারিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মাদক ও যেকোনো ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও পূর্ণ শক্তিতে অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: বিজিবি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।