প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও আবাসিক হল প্রাঙ্গণে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের উভয় পক্ষের একাধিক কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে লাবিব নামের এক তরুণের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে, যাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সমগ্র ক্যাম্পাস জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে চুক্তি, আইডিবি দিচ্ছে ১২,৩০০ কোটি টাকা
ক্যাম্পাস সূত্রের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার-স্টুডেন্ট সেন্টার বা টিএসসি (TSC) সংলগ্ন চত্বরে দুই পক্ষের কতিপয় অনুসারীর মধ্যে তুচ্ছ কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। রাজনৈতিক আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে মুহূর্তে সেই তর্ক চরম উত্তেজনায় রূপ নেয়। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের সমর্থকদের ডেকে এনে সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এরপর সংঘর্ষটি টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান আবাসিক ভবন 'অগ্নিবীণা হল'-এর সীমানা এলাকায়। সেখানে উভয় গ্রুপ সুসংগঠিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করে এবং মারমুখী আচরণে লিপ্ত হয়।
অগ্নিবীণা হলের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাত চলাকালে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মীকে রামদা, লাঠিসোটা ও দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। অস্ত্রধারী কর্মীদের এমন আগ্রাসী অবস্থানের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাত ও ইটপাটকেলের প্রভাবে উভয় পক্ষের কয়েকজন কর্মী রক্তাক্ত জখম হন। এর মধ্যেই লাবিব নামের ওই শিক্ষার্থী গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হলে সহপাঠীরা তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির খবর পাওয়ামাত্রই ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎক্ষণাৎ মাঠে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। পরিস্থিতি অতিরিক্ত অবাধ্য হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানা পুলিশকে। পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রক্টরিয়াল টিমের সাথে যৌথভাবে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয় পুরো হল এলাকা। পুলিশের টহল বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পরবর্তীতে সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং রাতের শেষ ভাগে গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বর্তমানে পুরো হল এলাকা ও ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে কথা বললে শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মামুন সরকার জানান, ঘটনার সূচনা মুহূর্তে তিনি ব্যক্তিগত কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছিলেন। ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর শোনার পর তিনি অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজিত কর্মীদের শান্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে কোনো প্রকার অরাজকতা কিংবা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। ঘটনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, তা অনুসন্ধান করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করে জানান যে, রাতের বেলা টিএসসি ও আবাসিক হল সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাত ও ঝামেলার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ঘটনার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক ও একাডেমিক পরিবেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও পুলিশ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।