সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: আব্দুস ছাত্তার (শামীম) / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দেশের সকল সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সিলেটের স্বনামধন্য এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের পেশাগত নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি এই নীতিগত ঘোষণা দেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিরীহ ও সাধারণ রোগীদের প্রলুব্ধ করে কিংবা বিভ্রান্তিতে ফেলে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সাথে যুক্ত অপতৎপরতাকারী দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত একাধিক

হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কায়েমী দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয় তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের দালালদের রুখে দিতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা সমন্বিতভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সকল অনিয়ম, গাফিলতি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দূর করে সর্বস্তরের জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। চিকিৎসা নিতে আসা দূর-দূরান্তের দুস্থ ও দরিদ্র মানুষ যাতে কোনো ধরনের প্রতারণা বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।

হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান জনবল ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের বড় ধরনের জনবল সংকট কাটাতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে কর্মী ও চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে চিকিৎসক ও সহকারী স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি অনেকাংশে নিরসন হবে। একই সাথে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োজিত চিকিৎসকদের সময়মতো উপস্থিতি সুনিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে চিকিৎসকদের যথাযথ সময়ানুবর্তিতা শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে ৩ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্ত হয়ে মায়ের জানাজায় সাবেক লীগ নেতা

সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার পূর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সিং কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে এক দীর্ঘ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত সভায় হাসপাতালের সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডগুলোর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগীদের সার্বিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। মন্ত্রী কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি সেবাপ্রার্থীকে নিজের আত্মীয় স্বজন মনে করে সর্বোচ্চ মানবিকতা ও দক্ষতার সাথে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে হবে।

সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ যখন সরকারি হাসপাতালে আসেন, তখন তারা পূর্ণ আস্থায় আসেন। সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নৈতিক দায়িত্ব। সরকার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ, উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং ভৌত অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ বৃদ্ধি করছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা দালালি সিন্ডিকেটের সাথে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরোক্ষ যোগসাজশ সহ্য করা হবে না বলে শক্ত বার্তা প্রদান করেন তিনি।

সিলেটের এই প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়ায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা এই আশ্বাসে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের এমন সমন্বিত তৎপরতা বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে, অন্যদিকে কর্মস্থলে চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলায় এই সফর ও নির্দেশনা এক ইতিবাচক মোড় ঘোরাবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন