প্রতিবেদন: সুফিয়ান নোমান / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী ও সুসমৃদ্ধ এলাকা শাহজাদপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ক্রীড়া পরিমণ্ডলের অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সফল ব্যবসায়ী মরহুম আব্দুল হালিম জিন্নুর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১লা সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ দুই দশক ধরে তিনি আমাদের মাঝে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থাকলেও শাহজাদপুর অঞ্চলের সার্বিক প্রশাসনিক ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও স্থানীয় অধিবাসীদের হৃদয়ে অত্যন্ত জীবন্ত হয়ে রয়েছে। ২০তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে শাহজাদপুরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাঁর বৈচিত্র্যময় জীবনের কীর্তিগুলোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক জ্ঞাপন করছেন। দীর্ঘ দুই দশক আগে তাঁর আকস্মিক বিদায়ে শাহজাদপুরে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল, তা আজও অনুভূত হয়। ১লা সেপ্টেম্বর তাঁর প্রয়াণ স্মরণে এলাকা জুড়ে এক বিশেষ শোক ও শ্রদ্ধার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকট ৬ মাসের ফসল নয়: পটুয়াখালীতে নুরুল হক নুর
শাহজাদপুর উপজেলার আধুনিক রাজনৈতিক কাঠামোর গোড়াপত্তন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে মরহুম আব্দুল হালিম জিন্নু এক দূরদর্শী কাণ্ডারি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শাহজাদপুর উপজেলা শাখার অত্যন্ত সফল ও দক্ষ প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। তৎকালীন সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে রাজপথের সক্রিয় রাজনীতিকে সুসংগঠিত করা, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন জোরদার করা এবং দলকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তিনি অসামান্য পরিশ্রম করেছেন। রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সকল মত ও পথের মানুষের সাথে চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। তাঁর এই প্রজ্ঞা ও বিনম্র আচরণ তাঁকে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত সর্বজনশ্রদ্ধেয় নেতায় পরিণত করেছিল।
রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি পেশাগত জীবনে আব্দুল হালিম জিন্নু ছিলেন শাহজাদপুরের একজন শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সুপরিচিত ঠিকাদার। শাহজাদপুর অঞ্চলের নানাবিধ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্র সম্প্রসারণে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। তিনি ব্যবসাকে কেবল নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখেননি, বরং এলাকার বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। একজন নীতিবান ব্যবসায়ী হিসেবে ঠিকাদারি খাতে নিজের সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের তিস্তা ব্যারাজ ও উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন
সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মরহুম আব্দুল হালিম জিন্নু ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও অগ্রগামী সমাজসেবক। এলাকার নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় আলোকিত করার মানসে তিনি শাহজাদপুরের একাধিক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি নীরব আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষ তাঁর দ্বারে পৌঁছালে তিনি কখনোই কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। তাঁর এমন পরোপকারী মানসিকতার কারণেই প্রবীণ সমাজ তাঁকে একবাক্যে অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী ও সাদা মনের মানুষ হিসেবে গণ্য করেন।
শিক্ষা ও রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও ছিল মরহুমের এক উজ্জ্বল ও বর্ণাঢ্য বিচরণ। তরুণ বয়সে তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও ক্ষিপ্র গতিসম্পন্ন ফুটবলার হিসেবে পুরো শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় দারুণ সুনাম অর্জন করেছিলেন। তাঁর চমৎকার ফুটবল খেলা তৎকালীন সময়ে ক্রীড়াপ্রেমী মানুষকে মুগ্ধ করতো। পরবর্তী জীবনে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ব্যস্ততা সত্ত্বেও খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ কমেনি। শাহজাদপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে চাঙ্গা রাখতে এবং তরুণদের মাদকের হাত থেকে দূরে রেখে সুস্থ মানসিকতায় গড়ে তুলতে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন ও সাহায্য করতেন। মরহুমের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
সূত্র: স্থানীয় সংবাদ ও পারিবারিক সূত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।