মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের তিস্তা ব্যারাজ ও উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের তিস্তা ব্যারাজ ও উত্তরাঞ্চল পরিদর্শন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উত্তরবঙ্গের কৃষি, অর্থনীতি ও ভূ-প্রাকৃতিক বাস্তবতার সার্বিক চিত্র সরজমিনে প্রত্যক্ষ করার উদ্দেশ্যে পাঁচ জেলায় তিন দিনের এক বিশেষ সাংগঠনিক ও কূটনৈতিক সফর শুরু করেছেন। উক্ত সফরের প্রথম দিনে রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরের দিকে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় সেচ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত নীলফামারী জেলার ডালিয়াস্থ তিস্তা ব্যারাজ এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা বলে খ্যাত তিস্তা নদীর বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা, শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহের ওঠানামা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার ওপর এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে জানার লক্ষ্যে তিনি ব্যারাজ ও সংলগ্ন এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বব্যাংকের সাথে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক ও যৌথ আলোচনা

ডালিয়া ব্যারাজ পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর বর্তমান ধারণক্ষমতা, পলল জমার পরিমাণ, নাব্য সংকট এবং ব্যারাজের মাধ্যমে পরিচালিত বৃহৎ সেচ কার্যক্রমের সার্বিক প্রক্রিয়া গভীর মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। উক্ত বৈঠককালে পাউবো কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনকে তিস্তা নদী অববাহিকার বর্তমান নাব্য সংকট, পলি জমে নদীগর্ভ ভরাট হয়ে যাওয়ার বাস্তবতা এবং বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির মারাত্মক ঘাটতির কারণে স্থানীয় কৃষককূলের জীবনজীবিকায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যাদি উপস্থাপন করেন। নদী ড্রেজিং ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনার নানাবিধ কৌশল নিয়েও আলোচনায় আলোকপাত করা হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত উত্তরাঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক কৃষি অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উদ্ভূত বিভিন্ন স্থানীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং তিস্তা অববাহিকায় বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ওপর গভীর আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, টেকসই কৃষি প্রযুক্তির বিকাশ এবং যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ অর্থনীতির টেকসই রূপান্তর এবং কৃষকদের সুরক্ষায় পানি সম্পদের সুষম ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহার নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ের রিসোর্ট কাণ্ডে হত্যার চক্রান্তের দাবি মামুনুল হকের

উল্লেখ্য যে, তিন দিনের এই বিশেষ সফরসূচির সূচনা হিসেবে রোববার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বিমানযোগে নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করেন। বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তিনি নীলফামারী ও রংপুরের সীমান্তঘেঁষা রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি এলাকায় গমন করেন। সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ দুগ্ধ শিল্পের বিকাশ এবং ডেইরি ফার্মের বৈপ্লবিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে একটি আধুনিক দুগ্ধ খামার সরজমিনে ঘুরে দেখেন। খামার পরিদর্শনের সময় তিনি খামারিদের সাথে কথা বলেন এবং বাংলাদেশে গবাদিপশু পালন, দুগ্ধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সার্বিক খোঁজখবর নেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের এই বিস্তীর্ণ সফরসূচির পরবর্তী অংশ হিসেবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক স্থানসমূহ পরিদর্শন করবেন। এসব স্থানে তিনি প্রান্তিক জনগণের কৃষিচর্চা, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্প এবং পরিবেশগত বাস্তবতার চিত্র সরেজমিনে মূল্যায়ন করবেন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের এই মাঠপর্যায়ের বিস্তৃত সফরকে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক কৃষি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি প্রশাসনিক কূটনৈতিক কদম হিসেবে বিবেচনা করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিজ্ঞ বিশ্লেষকগণ।

সূত্র: পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন