প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
বাংলাদেশে সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা খাতের মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে অবস্থিত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নিজ প্রশাসনিক দপ্তরে এই বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকটি সম্পন্ন হয়। বৈঠকে দেশের চলমান স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নতুন সহায়তার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে সুদূরপ্রসারী আলোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: ভারতে মুসলিমদের স্থান না দিলে সে হিন্দু নয়: মোহন ভগবত
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের প্রান্তিক ও গ্রামভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থার সার্বিক গুণগত মান বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুমঙ্গল এবং সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের মতো খাতসমূহ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান যে, দেশের বিপুল জনসংখ্যার জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার সার্বিক সুযোগ সহজলভ্য করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পান, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অবকাঠামো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই সংস্কারে অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী ও কৌশলগত সহযোগী হিসেবে কাজ করায় তিনি সংস্থাটির প্রতি ধন্যবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বর্তমান যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংস্থান, রোগীদের ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান, টেলিমেডিসিন ব্যবস্থার প্রসার এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা জোরদারে বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে কথা হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল সরকারের এসব জনকল্যাণমুখী প্রস্তাবকে সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করে এবং এসব উন্নয়নমূলক কাজে যৌথ গতি বৃদ্ধি করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অপহৃত মাইক্রোবাস তিন বছর পর ঢাকায় উদ্ধার
মতবিনিময়কালে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির চমৎকার সাফল্য, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস এবং জরুরি স্বাস্থ্য দুর্যোগ সফলতার সাথে মোকাবিলার অর্জিত দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে। বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, একটি কর্মক্ষম ও শক্তিশালী জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির সাথে সঙ্গতি রেখে জনগণের মৌলিক চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনীয় অনুদান ও ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দের শতভাগ স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজে কোনো আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে তদারকি সচল রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাংকের এই ধারাবাহিক জোরালো সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।