প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
কক্সবাজারের পাহাড়ি জনপদ ঈদগড় এলাকা থেকে দীর্ঘ তিন বছর পূর্বে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই করা একটি মাইক্রোবাস রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং বিশেষ ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সহায়তায় টানা অনুসন্ধানের মাধ্যমে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে গাড়িটি জব্দ করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কক্সবাজারের কলাতলী সংলগ্ন পিবিআই জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেন পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার সাফিউল সারওয়ার। তিন বছর পর ছিনতাই হওয়া বাহনটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ভুক্তভোগী মালিক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ভিসা সহজীকরণ ও চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা চুক্তির ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস ব্রিফিংকালে পিবিআই কর্মকর্তা ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান যে, আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্রের সদস্যরা সাধারণ যাত্রী সেজে কৌশলে মাইক্রোবাসটি ভাড়ায় রিজার্ভ করে ঈদগড় বাজারের দিকে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে রামু-ঈদগড় সড়কের একটি নির্জন স্থানে পৌঁছানোর পর আসামিরা চালকের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে মারাত্মক প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে নিস্তেজ ও অসহায় চালককে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে অপরাধী চক্রের সদস্যরা দ্রুত মাইক্রোবাসটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই থানায় মামলা দায়ের করা হলেও দুষ্কৃতকারীরা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার এবং অবস্থান পরিবর্তন করার কারণে এতদিন যানটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে ন্যস্ত হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ চিরাচরিত অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহার শুরু করেন। পিবিআই কর্মকর্তা সাফিউল সারওয়ার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পর্যবেক্ষণ করে পিবিআই নিশ্চিত হয় যে ছিনতাইকৃত গাড়িটি ঢাকা শহরের বনশ্রী এলাকায় অবস্থান করছে। স্থানটি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হওয়ার পরপরই পিবিআইয়ের একটি চৌকস টিম ঢাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গাড়িটি নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে ১৭ বছর বয়সের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা গ্রেপ্তার
পিবিআইয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা আরও জানান, কেবল গাড়ি উদ্ধার করাই শেষ নয়; বরং এই ছিনতাইকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আন্তঃজেলা চক্রের সদস্যদের পরিচয়ও শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আসামিরা ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চোরাই গাড়ি কেনাবেচায় যুক্ত ছিল। চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে দেশের সম্ভাব্য একাধিক স্থানে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া উপার্জনের একমাত্র সম্বল উদ্ধার হওয়ায় ভুক্তভোগী চালক ও মালিক পিবিআইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। পিবিআই জানিয়েছে, আইনি ও দাপ্তরিক নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে খুব শিগগিরই বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে গাড়িটি আসল মালিকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে। জনসম্পদ সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে ও অপরাধীদের তৎপরতা ভেস্তে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সাফল্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যেকোনো জটিল মামলার রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ। ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনা রোধে সার্বিক সড়ক নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদার রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: পিবিআই প্রেস ব্রিফিং ও কক্সবাজার কার্যালয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।