প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পিতা ও কন্যার পবিত্র সামাজিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত হানা এক জঘন্য ও নৈতিক অবক্ষয়মূলক অপরাধের ঘটনার মূল অভিযুক্তকে অবশেষে আইনের জালে বন্দি করা হয়েছে। নিজের ১৭ বছর বয়সী কিশোরী কন্যাকে নিজ বাসভবনে মধ্যরাতে পাশবিক ও নির্মম নির্যাতনের শিকার করার মারাত্মক অভিযোগে ৪৫ বছর বয়সী মো. নুরুল হক নামের এক পিতাকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ ২৯ আগস্ট ২০২৬ শনিবারে প্রাপ্ত অফিশিয়াল তথ্যমতে, গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের হাসপাতাল রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে এক বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর আপন মায়ের থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত এজাহার দায়েরের পর তাৎক্ষণিকভাবে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ। পবিত্র পারিবারিক বন্ধন ক্ষুণ্নকারী এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: আব্দুল্লাহপুরে মোটরসাইকেলে নিস্তেজ তরুণী উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন
মামলার লিখিত বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পশুতুল্য এই ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কাকনহাটি গ্রামের অধিবাসী অভিযুক্ত নুরুল হকের বসতঘরের বারান্দার সাথে সংযুক্ত একটি নির্দিষ্ট কক্ষে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল ভুক্তভোগী কিশোরী। গভীর রাতের নিরবতার সুযোগে অভিযুক্ত নুরুল হক গোপনে কক্ষে প্রবেশ করে এবং নিজের গর্ভজাত সন্তানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অমানবিক যৌন নির্যাতন চালায়। ঘটনার আকস্মিকতায় শংকিত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত কিশোরী ভয়ে সে সময় চিৎকার করতে পারেনি। সামাজিক লজ্জা এবং পরবর্তীতে পিতার দেওয়া মারাত্মক হুমকির ভয়ে প্রাথমিক অবস্থায় বিষয়টি গোপন রাখলেও ঘটনার তিন দিন পর অসহনীয় মানসিক বেদনায় ভুক্তভোগী কিশোরী তার মায়ের কাছে সমস্ত ঘটনা বিস্তারিত খুলে বলে।
ঘটনাক্রম প্রকাশ্যে আসার পর নিজের অপরাধ ঢাকা দিতে অভিযুক্ত নুরুল হক চরম বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। সে তার স্ত্রী ও নিগৃহীত কিশোরী কন্যাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মুখ খুললে পরিণতি মারাত্মক হবে বলে হুমকি দিতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেও সাহসিকতার সাথে গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। বাদীর অভিযোগ লিখিতভাবে পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা লিপিবদ্ধ করে। এরপরই অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করার লক্ষ্যে ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ দল রাতেই ঝটিকা অভিযানে মাঠে নামে।
আরও পড়ুন: যশোরে স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তির বিরোধে সত্তর বছরের মাকে বাড়ি থেকে তাড়াল ছেলেরা
থানা পুলিশের বিশেষ টিম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাত আড়াইটার দিকে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোড মোড় এলাকা থেকে পলাতক আসামি নুরুল হককে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামিকে থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হলে তার সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক তথ্য উন্মোচিত হয়। তদন্তে জানা গেছে, কেবল নিজ সন্তানের ওপর পাশবিক অত্যাচারই নয়, অভিযুক্ত নুরুল হক একজন চিহ্নিত অপরাধী। রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় দায়ের হওয়া এক দুর্ধর্ষ দস্যুতা বা ডাকাতির মামলায় দীর্ঘদিন যাবত তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল, যা এড়িয়ে সে এতদিন গোপনে আত্মগোপন করেছিল।
ঘটনা প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কিশোরীর মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পিতাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাড্ডা থানার দস্যুতা মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে উভয় মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শুক্রবার বিজ্ঞ আদালতের সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্পর্কের এই চরম অবক্ষয়মূলক অপরাধে জড়িত আসামির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।