প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল, আধুনিক এবং জনবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের জন্য সরকারের নীতিনির্ধারক মহল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে কাজ করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের দপ্তরে জাপানের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বখ্যাত উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা জাইকা এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের সুতোয় বাঁধা এই বৈঠকটি বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা খাতের রূপান্তরে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে সারের ডিলারের গোডাউন ভেঙে কৃষকদের বস্তা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা

নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচি ও দাপ্তরিক শিডিউল অনুযায়ী গত রোববার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের নিজ দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ছুটির রেশ কাটিয়ে সপ্তাহের একটি কর্মব্যস্ত সকালে জাপানের জাইকা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বহনকারী গাড়ি বহরটি যখন মন্ত্রণালয় চত্বরে এসে পৌঁছায়, তখন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের স্বাগত জানান। প্রতিমন্ত্রীর বারিধারা বা সচিবালয়স্থ দপ্তরে প্রবেশ করার পর উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় হয় এবং জাপানি প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান অগ্রগতি ও সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি গভীর প্রশংসা জ্ঞাপন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই একান্ত বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য যেসব অগ্রাধিকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

সাক্ষাৎকালে জাইকা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছিল। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি করা, আধুনিক হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির আধুনিকায়ন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানে জাপানি সহায়তার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। জাইকা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে অত্যন্ত বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে আসছে, যা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে জাইকার এই ধরনের সহযোগিতাকে আরও বেশি সম্প্রসারিত করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী, যার প্রতি জাপানি প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকেও অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক সাড়া প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: রাজধানী ও মহাসড়কে এআই ক্যামেরার নজরদারি: স্বয়ংক্রিয় জরিমানায় কঠোর হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ

বৈঠক চলাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংস্কার এবং গ্রামীণ পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে এবং সর্বোত্তম মানের আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আর এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত মূল্যবান। জাইকা প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিগত বছরগুলোর অগ্রগতির কথা শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা, আর্থিক অনুদান এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষের এই আলোচনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আগামী দিনে দুপক্ষের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি বা জাইকার পক্ষ থেকে আসা প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে জাপান সরকার সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে। চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে জাইকা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর বর্তমান কাজের গতি প্রকৃতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয় এবং কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই প্রকল্পগুলো যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন। প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জাইকার প্রতিনিধিদের কাজের স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় করেন এবং আগামী দিনে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সভাটি সমাপ্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে জাইকার প্রতিনিধিদলের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভাটি শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে এবং স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের মাঝে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন যে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও পেশাদার বৈঠকগুলো আমাদের দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথকে ত্বরান্বিত করবে। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং দাতা সংস্থাগুলোর সঠিক সহায়তার সমন্বয়ে দেশের চিকিৎসাসেবা খাতের যে রূপান্তর ঘটে চলেছে, তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। স্বাস্থ্য খাতের এই ধারাবাহিক উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো মহামারী বা স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে সকলে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করছেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের সঙ্গে জাইকার প্রতিনিধিদলের এই ফলপ্রসূ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভাটি বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও একটি উজ্জ্বল মাইলফলক হিসেবে সংযোজিত হলো। পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ধরনের কার্যক্রমগুলো আমাদের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্তির মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করবে। আমরা আশা করি এই বৈঠকের মাধ্যমে যেসব নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের রূপ লাভ করবে এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বিপ্লব সাধিত হবে। বাংলাদেশ ও জাপানের এই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতেও আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে—এটাই এখন দেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা।

প্রতিবেদনের সূত্র: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাইকা প্রেস উইং।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন