প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর সংলগ্ন অঞ্চল ও সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প প্রসারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) নির্মাণকাজের সুনির্দিষ্ট ভৌত অগ্রগতি সরজমিনে পরিদর্শনের সময় জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন একাধিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) পটুয়াখালী জেলা সদরে বাস্তবায়নাধীন ইপিজেড প্রকল্প এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করেন। পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অপহৃত মাইক্রোবাস তিন বছর পর ঢাকায় উদ্ধার
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমানে যে অভূতপূর্ব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংক্রান্ত তীব্র অভাব ও সংকট দৃশ্যমান হচ্ছে, তার পেছনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা নীতিগত দুর্বলতা কাজ করছে। এই সংকট মাত্র ছয় মাস পূর্বে দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কিংবা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সরকারের একক ভুল সিদ্ধান্তের ফসল নয়। তিনি স্পষ্ট জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কেন্দ্রিক এই জটিল সমস্যাটিকে কোনো একক political দলের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি একটি জাতীয় সংকট। তাই এই জাতীয় সমস্যাকে ঘিরে কোনো প্রকার নীতিগত আলোচনা না করে আন্দোলনের দোহাই দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে দেশের অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখোমুখি হবে।
চব্বিশের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়কালকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, বিগত দিনের শাসন ব্যবস্থার পতনের পর অর্জিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই সুযোগকে কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে হলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একাত্ম হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশবাসীকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সবাই স্বচ্ছতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এই দেশকে এক সুদৃঢ়, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি, সংঘাতের শঙ্কা
পটুয়াখালী জেলার শিল্পায়ন ও তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি পটুয়াখালী ইপিজেড প্রকল্পের কাজ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কিছুটা হতাশা ও শঙ্কা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ ২৮ সালের মেয়াদের মধ্যে পটুয়াখালী ইপিজেডের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে তা পুর্ণাঙ্গভাবে চালু করার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা থাকলেও, সরেজমিনে কাজের ধীরগতি পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে গভীর সংশয় ব্যক্ত করেছেন নুরুল হক নুর। তিনি প্রকল্পের সাথে জড়িত সকল প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি সংস্থাকে কাজের গতি বৃদ্ধি করার জোর তাগিদ দেন, যাতে নির্ধারিত সময়ে সুফল পাওয়া যায়।
দক্ষিণাঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে পটুয়াখালী ইপিজেডের অপার সম্ভাবনার কথা পুনরুল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সম্পূর্ণরূপে চালু হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। যার ফলে প্রবাসগমন ইচ্ছুক কিংবা দেশীয় শিক্ষিত যুবকদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই এই প্রকল্পের কাজে কোনো ধরণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা অযৌক্তিক বিলম্ব সহ্য করা হবে না বলে তিনি সতর্ক বার্তা দেন। একই সাথে প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
সর্বশেষে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি দিনের সফর সমাপ্ত করেন। কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়ে আলোচনার টেবিলে এসে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। পটুয়াখালী ইপিজেড নির্মাণে প্রকাশ পাওয়া ধীরগতি দূর করতে প্রশাসনিক তদারকি বৃদ্ধি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
সূত্র: পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ও প্রবাস কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।