সোনারগাঁয়ের রিসোর্ট কাণ্ডে হত্যার চক্রান্তের দাবি মামুনুল হকের

সোনারগাঁয়ের রিসোর্ট কাণ্ডে হত্যার চক্রান্তের দাবি মামুনুল হকের
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে ২০২১ সালে সংঘটিত বহুল আলোচিত ঘটনার নেপথ্যে তাঁকে সরাসরি হত্যা করার এক গভীর সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত সাজানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তৎকালীন স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রশাসনিক চক্রান্তকারীদের সেই জঘন্য নীল নকশা অবশেষে বুমেরাং হয়ে তাদের ওপরই ফিরে এসেছে; ষড়যন্ত্রকারীরা সফল না হয়ে পরবর্তীতে নিজেরাই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে নিপতিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: নেপালে বন্যায় ভেসে আসা ব্যাংকের ভল্ট লুট, আটক ২৯

ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত তুলে ধরে আল্লামা মামুনুল হক উপস্থিত আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনতার উদ্দেশে বলেন, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে যখন তিনি সোনারগাঁয়ের ওই রয়েল রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন, তখন একদল লোক পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ঘেরাও করে অবরুদ্ধ পরিবেশ তৈরি করে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করলেও ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আলেম সমাজকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে তাঁকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে কারাকক্ষে বন্দি রাখা হয়। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার তৌহিদী জনতার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলার আশ্রয় নিয়েছিল।

বিগত শাসনামলে আলেমদের ওপর নেমে আসা চক্রান্তের চিত্র ফুটিয়ে তুলে খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, সেদিনের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না; বরং তা ছিল ইসলামি নেতৃত্বকে সামাজিকভাবে হেয় করার এবং চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার এক অশুভ রাজনৈতিক চাল। তবে সত্য কখনো চক্রান্তের আঁধারে হারিয়ে যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলেম সমাজকে নিঃশেষ করার চক্রান্ত অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে। যেসব অপশক্তি মিথ্যা মামলার জালে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বন্দি রেখেছিল, তারা ইতিহাসের নিয়মে আজ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সত্য ও ন্যায়বিচারের জয় আজ সমগ্র দেশবাসীর সামনে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

আরও পড়ুন: লংমার্চের ১ লাখ লিটার তেল নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর

রয়েল রিসোর্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অবদানের কথা স্মরণ করে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ওই ঘটনায় বানোয়াট মামলায় বিশিষ্ট আলেম মাওলানা ইকবাল হোসাইনকেও অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। দীর্ঘ কারাবাস ও পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁর ওপর চালানো হয়েছিল অমানুষিক নির্যাতন। কারাকক্ষের সেই অবর্ণনীয় কষ্ট ও শারীরিক মারাত্মক অবনতির ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মাওলানা ইকবাল হোসাইনের এই ত্যাগ ও অকাল মৃত্যু এ দেশের আলেম সমাজের ইতিহাসে চিরকাল এক বেদনাবিধুর স্মৃতি হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষক, ওলামায়ে কেরাম এবং স্থানীয় ইসলামপ্রিয় সাধারণ জনগণ অংশ নেন। সভায় উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান। একই সাথে দেশে সুবিচার ও নীতি-নৈতিকতা কায়েমের জন্য তৌহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশের শেষভাগে আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গকারীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং অসুস্থ আলেমদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এই মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে উপজেলা অডিটোরিয়াম চত্বরে উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম ঘটে, যা স্থানীয় পরিমণ্ডলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আলেমদের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে খেলাফত মজলিসের এই প্রয়াসকে সচেতন সমাজ ইতিবাচকভাবে দেখছে। আগামী দিনে সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান রাখার অঙ্গীকারের মাধ্যমে সভার সফল সমাপ্তি ঘটে।

সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক ও পলিটিক্যাল ডেস্ক।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন