মস্কোয় মার্কিন-রুশ গোপন বৈঠক নিয়ে মুখ খুললেন জেলেনস্কি

মস্কোয় মার্কিন-রুশ গোপন বৈঠক নিয়ে মুখ খুললেন জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পূর্ব ইউরোপের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এক অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত গোপন কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রুশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটার পর একটা কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে পুরোপুরি অবহিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এক বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে এই তথ্য নিশ্চিত করে ইউক্রেনীয় প্রধান জানান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো আলোচনা শুরুর পূর্বেই ওয়াশিংটন কিয়েভের সাথে কথা বলেছে এবং বৈঠক শেষে আলোচনার বিস্তারিত ফলাফল কিয়েভকে জানানো হয়েছে। চলমান সামরিক সহিংসতা বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের গৃহীত বাস্তবমুখী পদক্ষেপসমূহকে ইউক্রেন ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুদ্ধের মূল সূচনাকারী রাষ্ট্র হিসেবে রাশিয়াকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: সোনারগাঁয়ের রিসোর্ট কাণ্ডে হত্যার চক্রান্তের দাবি মামুনুল হকের

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মেরুকরণের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। এতদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার নীতি অনুসরণ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে সরাসরি যে গোপন বার্তা আদান-প্রদান এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেটিকে শান্তি প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলেনস্কি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সংঘাত নিরসনের যেকোনো গঠনমূলক প্রয়াসকে তাঁরা স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্র কোনো সিদ্ধান্তই ইউক্রেনকে অন্ধকারে রেখে গ্রহণ করছে না, বরং প্রতিনিয়ত কিয়েভের মতামতকে অগ্রাধিকার প্রদান করছে। ফলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর ইউক্রেনীয় প্রশাসনের পর্যাপ্ত আস্থা বহাল রয়েছে বলে তিনি ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-এর শীর্ষ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার সরকারি ভবন ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই দুই পরাশক্তির মধ্যে এই অতি গোপনীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দুই দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধান ও প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় অংশ নেন। সিআইএ প্রধানের এই আকস্মিক মস্কো সফর রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটে এক নতুন কূটনৈতিক নির্দেশক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে এই গোপন সফরটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

আরও পড়ুন: আইনজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ, পেশাদারিত্বের তাগিদ আইনমন্ত্রীর

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বক্তব্যে প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তাঁর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট বা ন্যাটো (NATO) ভুক্ত কোনো দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হবে না। রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের এই বার্তা ইউরোপীয় অঞ্চলের সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আশ্বাসবাণী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়ানোর একটি কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

কিয়েভের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা হয়েছে যে, যেকোনো শান্তি আলোচনার প্রধান শর্ত হলো ইউক্রেনের সার্বিক ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও জনগণের সুরক্ষার পূর্ণ নিশ্চয়তা। ওয়াশিংটন ও মস্কোর গোপন বৈঠকের পর আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন