রায়গঞ্জের নিমগাছি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৭ দোকান ছাই, ক্ষতি ১০ লাখ

রায়গঞ্জের নিমগাছি বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৭ দোকান ছাই, ক্ষতি ১০ লাখ
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার অন্যতম নিমগাছি বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে বাজারের অন্তত সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে যখন পুরো নিমগাছি বাজার এলাকা নিস্তব্ধ অবস্থায় ছিল, ঠিক তখনই একটি দোকান থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিবিড় প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম জিন্নুর ১লা সেপ্টেম্বর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে হঠাৎ নিমগাছি বাজারের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি দোকানের পেছনের দিক থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ভোরের আলো ফোটার আগেই আগুনের উত্তাপ ও ধোঁয়ায় পুরো বাজার এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নিকটস্থ বাড়িঘর থেকে স্থানীয় অধিবাসী এবং ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি উৎসুক জনতা ও ব্যবসায়ীরা সাধ্যমতো বালতি ও পানির উৎস থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তবে বাতাসের গতি ও দোকানে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে আগুনের শিখা দ্রুত রূপ ধারণ করায় স্থানীয়দের পক্ষে আগুন দমিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি বিশেষ ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কালবিলম্ব না করে বাজারের কৌশলগত দিকগুলো থেকে পানি ছিটানো শুরু করেন। আগুন যেন পুরো বাণিজ্যিক এলাকা বা পেছনের বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য তড়িৎ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সুসংগঠিত প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে আগুন শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে আগুনে সাতটি দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও গচ্ছিত নগদ অর্থ পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ২ লাখ শ্রমিক নিয়োগ ও ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা

ভোরের এই অগ্নিকাণ্ডে যেসকল ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা হলেন সোলেমান তালুকদার, হায়দার আলী, দিগেন্দ্রনাথ সরকার, সাধন কুমার সরকার, ক্ষুদিরাম সরকার, আতাউর এবং আব্দুল্লাহ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও তারা দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যান। কিন্তু ভোরে আগুনের খবরে এসে দেখতে পান যে তাদের জীবনযাত্রার একমাত্র সম্বল দোকানগুলো আগুনে ভস্মীভূত হচ্ছে। চোখের সামনে নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাই হয়ে যেতে দেখে চরম কষ্টে ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগীরা। দোকানে থাকা গচ্ছিত নগদ টাকা ও নতুন মালামালের মজুদ সব আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই কোনো একটি দোকানের ভেতরে আগুনের সূচনা হয়ে থাকতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞরা অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হলেই আগুন লাগার সঠিক কারণ ও নিরূপিত মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা সম্ভব হবে। একই সাথে প্রশাসনিক সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনায় নিমগাছি বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একমাত্র আয়ের পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের সব মূলধন ধ্বংস হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি আর্থিক সাহায্য ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীত আকুল দাবি জানিয়েছেন।

সূত্র: ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ী।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন