লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত শাহজাদপুর; ১ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট

লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত শাহজাদপুর; ১ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট

 লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত শাহজাদপুর; ১ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) | দিগন্ত বাংলা নিউজ

​সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বিদ্যুতের চরম লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গত দুদিন ধরে চলা এই তীব্র সংকটে স্থানীয় বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে গতকাল শনিবার রাত থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে—প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় পুরো উপজেলা জুড়ে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

এক ঘণ্টা পরপর লোড শেডিং: রাতভর ভোগান্তি

​শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শাহজাদপুর পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ একবার গেলে আসার কোনো নামগন্ধ থাকে না, আর আসলেও তা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের। বিশেষ করে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছে, যার ফলে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা।

স্থবির হয়ে পড়েছে তাঁত শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য

​তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ শাহজাদপুরের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বিদ্যুৎ। ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কারণে তাঁত কলগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। এছাড়া স্থানীয় বিপণিবিতান ও ছোট ছোট কারখানাগুলোও বিদ্যুতের অভাবে সময়মতো কাজ শেষ করতে পারছে না।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম বিঘ্ন

​সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাময়িক পরীক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকলেও লোড শেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় মন বসাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি বা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়াশোনা করাও এই গরমে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে চূড়ান্ত পরীক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও ক্ষোভ

​উপজেলার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চান। শাহজাদপুর বাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, "এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে তো পরের এক ঘণ্টা থাকে না। দোকানের ফ্রিজে থাকা মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুতের এমন লুকোচুরি আমরা আগে কখনও দেখিনি।"

জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট ও শাহজাদপুর

​বর্তমানে সারাদেশে জ্বালানি স্বল্পতার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। তবে শাহজাদপুরের মতো একটি শিল্পসমৃদ্ধ এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোড শেডিংয়ের এই মাত্রা মানতে পারছেন না কেউই।

​এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুতই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং শাহজাদপুরবাসীকে এই অসহনীয় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেবেন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন