সন্তানকে বাঁচাতে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ বাবার, অলৌকিক রক্ষা!
নিজস্ব প্রতিবেদক, দিগন্ত বাংলা নিউজ, ভৈরব | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চলন্ত ট্রেনের নিচে দুই বছরের নিথর শিশু, আর তাকে বুক দিয়ে আগলে কোলবালিশের মতো জড়িয়ে শুয়ে আছেন বাবা। ওপর দিয়ে দ্রুতবেগে চলে যাচ্ছে তিতাস কমিউটার ট্রেনের একেকটি বগি। চারপাশে শত শত মানুষের রুদ্ধশ্বাস প্রার্থনা আর আতঙ্কে স্তব্ধ প্ল্যাটফর্ম। মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্যটি কোনো সিনেমার গল্প নয়, বরং এক বাবার অসীম সাহসিকতা ও ভালোবাসার এক জীবন্ত উপাখ্যান।
ঘটনার সূত্রপাত:
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রামের এক দম্পতি তাদের দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে তিতাস কমিউটার ট্রেনে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভৈরব স্টেশনে এসেছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের নির্ধারিত ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশনে পৌঁছালে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার সময় ঘটে বিপত্তি।
ট্রেনের কামরায় উঠতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে শিশুসহ নিচে পড়ে যান মা। কোনোমতে মা প্ল্যাটফর্মে উঠে আসতে পারলেও শিশুটি ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের সরু ফাঁকা জায়গায় আটকা পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার হুইসেল বাজে।
বাবার অসীম সাহসিকতা:
সন্তানকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দেখে মুহূর্তের চিন্তা না করে নিচে লাফিয়ে পড়েন বাবা। তিনি শিশুটিকে নিজের বুকের নিচে জড়িয়ে ধরে রেললাইনের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন। মুহূর্তেই ট্রেনটি চলতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেনের একের পর এক বগি তাদের ওপর দিয়ে চলে যায়, কিন্তু বাবা নিজের অবস্থান থেকে চুল পরিমাণ নড়াচড়া করেননি।
রুদ্ধশ্বাস অবসান:
ট্রেনটি পুরোপুরি চলে যাওয়ার পর উপস্থিত জনতা ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত নিচে নেমে দেখেন বাবা ও ছেলে দুজনেই অলৌকিকভাবে অক্ষত। এ সময় পুরো স্টেশনে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া বলেন, "বাবা তার ছেলেকে যেভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন, সামান্য নড়াচড়া করলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আমি এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি।"
বর্তমান অবস্থা:
ঘটনার পর ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, "আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে অলৌকিকভাবে শরীরে কোনো আঘাত না লাগায় তারা হাসপাতালে যেতে রাজি হননি। মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত থাকায় তারা ঢাকায় না গিয়ে কটিয়াদীর নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।