ব্রেকিং নিউজ

সন্তানকে বাঁচাতে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ বাবার, অলৌকিক রক্ষা!

সন্তানকে বাঁচাতে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ বাবার, অলৌকিক রক্ষা!
ছবি: সংগৃহীত

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে অসীম সাহসিকতা ও পিতৃস্নেহের এক অবিশ্বাস্য উপাখ্যান: চলন্ত তিতাস ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজের বুক দিয়ে সন্তানকে আগলে অলৌকিক জীবনদান বীর বাবার

সারাদেশ ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পৃথিবীতে সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসার গভীরতা পরিমাপ করার কোনো বৈজ্ঞানিক বা গাণিতিক স্কেল আজও আবিষ্কৃত হয়নি। সন্তানের জীবন বাঁচাতে বাবা-মা নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে মৃত্যুর মুখে অনায়াসে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন—এমন দৃষ্টান্ত যুগে যুগে তৈরি হয়েছে। তবে সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সাধারণ মানুষের চেনা সমস্ত বাস্তবতাকে হার মানিয়েছে এবং সেলুলয়েডের রূপালী পর্দার রোমাঞ্চকর কল্পকাহিনীকেও হার মানিয়েছে। চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়ে যাওয়া দুই বছরের এক অবোধ শিশুকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে নিজের জীবনকে বাজি রেখে লাইনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এক বীর বাবা।

চলন্ত লোহার দানবীয় ট্রেনের নিচে যখন দুই বছরের নিথর শিশুটি মৃত্যুর প্রহর গুনছিল, ঠিক তখন তাঁর জন্মদাতা পিতা নিজের শরীরকে একটি কোলবালিশের মতো বানিয়ে সন্তানকে বুকের নিচে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে লাইনের ওপর উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলেন। ওপর দিয়ে প্রচণ্ড শব্দে ও দ্রুতবেগে চলে যাচ্ছিল তিতাস কমিউটার ট্রেনের একের পর এক ভারী লোহার বগি। আর এই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত শত শত মানুষের রুদ্ধশ্বাস প্রার্থনা, চিৎকার আর আতঙ্কে পুরো স্টেশন প্রাঙ্গণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই অলৌকিক ও লোমহর্ষক ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।

### ঘটনার সূত্রপাত ও প্রেক্ষাপট: ভৈরব স্টেশনের সেই ছকভাঙা অভিশপ্ত দুপুর

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে এই ঘটনার পেছনের পুরো বিবরণটি জানা গেছে। ঘটনার শিকার ওই পরিবারটি মূলত কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা তাদের মাত্র দুই বছর বয়সী ফুটফুটে কন্যাসন্তান বা পুত্রসন্তানকে (শিশুটিকে) সঙ্গে নিয়ে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এসেছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল ভৈরব থেকে ঢাকাগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানো।

কিন্তু রেলওয়ের চিরাচরিত শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের নির্ধারিত তিতাস কমিউটার ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে ভৈরব স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছায়। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ালে অন্যান্য যাত্রীদের মতো এই দম্পতিও তাদের শিশু সন্তানকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ট্রেনের কামরায় ওঠার চেষ্টা করেন। আর ঠিক এই হুড়োহুড়ির মুহূর্তেই ঘটে যায় এক চরম বিপত্তি। ট্রেনের কামরার দরজায় ওঠার সময় অতিরিক্ত ভিড় এবং পা পিছলে ভারসাম্য হারিয়ে শিশুসহ ট্রেনের নিচে পড়ে যান মা।

আরও পড়ুন: প্রতারণার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা: ১৬ বিলিয়ন ডলার অবৈধ আয়ের দাবি

ঠিক সেই মুহূর্তের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। মা কোনোমতে নিজের শারীরিক চটপটা এবং উপস্থিত মানুষের সহায়তায় প্ল্যাটফর্মের ওপরে উঠে আসতে সক্ষম হলেও, দুই বছরের অবোধ শিশুটি ছিটকে গিয়ে ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মের মধ্যবর্তী অত্যন্ত সরু ও বিপজ্জনক ফাঁকা জায়গায় লাইনের ওপর পড়ে যায়। ঠিক মা যখন ওপরে উঠলেন এবং শিশুটি নিচে আটকা পড়ে রইল, ঠিক তখনই ট্রেনের চালক ট্রেনটি ছাড়ার জন্য দীর্ঘ হুইসেল বাজিয়ে দেন এবং ট্রেনটি ধীরগতিতে সচল হতে শুরু করে।

### মৃত্যুর মুখোমুখি বীর পিতা: মুহূর্তের সিদ্ধান্তে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ

নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকে ট্রেনের লোহার চাকার নিচে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পতিত হতে দেখে ওই বাবার মস্তিস্কে আর কোনো দ্বিধা বা ভয়ের অবকাশ ছিল না। তিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে, এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময়ে একটি অবিশ্বাস্য ও সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ট্রেনটি চলতে শুরু করার সাথে সাথেই তিনি ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাসরি চলন্ত ট্রেনের নিচে লাইনের ওপর লাফিয়ে পড়েন।

রেললাইনের ভেতরের সরু জায়গার মধ্যে নেমে তিনি প্রথমেই শিশুটিকে টেনে নিজের বুকের নিচে শক্ত করে চেপে ধরেন। সন্তান যাতে কোনোভাবেই ট্রেনের নিচের কোনো লোহার যন্ত্রাংশ বা চাকার সংস্পর্শে আসতে না পারে, সেজন্য তিনি নিজেকে একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে তৈরি করেন এবং কোলবালিশের মতো করে শিশুটিকে জাপটে ধরে লাইনের সমান্তরালে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পায় এবং একের পর এক ভারী বগি ও চাকা প্রচণ্ড শব্দে তাদের ওপর দিয়ে চলে যেতে থাকে। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে ওই বাবা নিজের অবস্থান থেকে চুল পরিমাণ বা এক ইঞ্চিও নড়াচড়া করেননি। কারণ তিনি ভালো করেই জানতেন, সামান্যতম নড়াচড়া বা মাথা উঁচানোর চেষ্টা করলে ট্রেনের নিচের যন্ত্রাংশের আঘাতে দুজনেরই দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।

### ঘটনার ক্রনোলজিক্যাল টাইমলাইন ও বিবরণী সারণী

ভৈরব স্টেশনে ঘটে যাওয়া এই রুদ্ধশ্বাস ঘটনার পুরো সময়রেখা এবং বিবরণ পাঠকদের স্পষ্ট ধারণার জন্য নিচে একটি সারণীর মাধ্যমে সাজানো হলো:

সময় ও পর্যায়ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও বাস্তব চিত্র
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটতিতাস কমিউটার ট্রেনের ভৈরব স্টেশনে পৌঁছানোর অফিশিয়াল নির্ধারিত সময়।
দুপুর ২টা ৩০ মিনিটপ্রায় ১ ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে প্রবেশ করে এবং যাত্রীদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়।
দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটকামরায় ওঠার সময় ভারসাম্য হারিয়ে মা ও শিশু ট্রেনের ফাঁকা জায়গায় পড়ে যান। মা উদ্ধার পেলেও শিশুটি আটকে থাকে।
ক্রিটিক্যাল মোমেন্টট্রেনের হুইসেল বেজে ওঠে এবং ট্রেনটি চলতে শুরু করে। বাবা তাৎক্ষণিকভাবে নিচে লাফ দেন।
লোমহর্ষক ৫ মিনিটবাবা সন্তানকে বুকে জড়িয়ে লাইনে উপুড় হয়ে থাকেন, ওপর দিয়ে ট্রেনের সমস্ত বগি চলে যায়।
অলৌকিক অবসানট্রেন চলে যাওয়ার পর বাবা ও শিশুকে সম্পূর্ণ অক্ষত ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

### রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের অবসান ও অলৌকিক রক্ষা: প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে জল

ট্রেনটি যখন সম্পূর্ণ গতিতে স্টেশন ছেড়ে চলে যায়, তখন প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত শত শত মানুষ এবং দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা এক বুক আতঙ্ক নিয়ে রেললাইনের নিচে তাকান। সবাই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন যে এক চরম বীভৎস দৃশ্য তাদের দেখতে হবে। কিন্তু মহান আল্লাহর অসীম কুদরত ও অলৌকিক কৃপায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে দেখা যায়, বাবা ও ছেলে (বা মেয়ে) দুজনেই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় লাইনের ওপর শুয়ে আছেন। তাদের শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পর্যন্ত ছিল না।

আরও পড়ুন: কর্মচারী থেকে ১৭ ফ্ল্যাটের মালিক! বিটিভি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য

উপস্থিত জনতা দ্রুত নিচে নেমে পরম যত্নে বাবা ও সন্তানকে ওপরে তুলে আনেন। এই সময় পুরো ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে এক অভূতপূর্ব এবং চরম আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আনন্দে এবং স্বস্তিতে অনেকের চোখ দিয়েই জল গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী এবং তিতাস ট্রেনের টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়া সেদিনের সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

টিকিট বিক্রেতা ফালু মিয়ার প্রত্যক্ষদর্শী বয়ান:

"আমি আমার দীর্ঘ চাকরি জীবনে রেলওয়ে স্টেশনে অনেক ধরনের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা দেখেছি। কিন্তু গত মঙ্গলবারের দৃশ্যটি আমার জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। চলন্ত ট্রেনের নিচে ওই বাবা তাঁর অবোধ ছেলেকে যেভাবে নিজের বুকের ভেতর জড়িয়ে ধরে পাথরের মতো স্থির হয়ে শুয়েছিলেন, তা অলৌকিক ছাড়া আর কিছুই নয়। সামান্যতম নড়াচড়া কিংবা ভয়ের কারণে একটু এদিক-ওদিক হলেই আজ এখানে দুটি তাজা প্রাণ নিমিষেই শেষ হয়ে যেতো। আমি নিশ্চিত, এটি কেবলই ঈশ্বরের নিজের হাতের রক্ষা এবং একজন বাবার অসীম ভালোবাসার শক্তির জয়। এমন দৃশ্য আমি আমার জীবনে আর কোনোদিন দেখিনি।"

### বর্তমান অবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মানসিক ট্রমা

এই অকল্পনীয় ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার ঘটনার পর ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়। ভৈরব রেলওয়ে থানার দূরদর্শী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের এই বিষয়ে সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন এবং স্টেশনের লোকজন মিলে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদের বক্তব্য:

"ঘটনাটি ঘটার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাবা ও শিশুকে আমাদের হেফাজতে নিই এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করি। একই সাথে আমরা তাদের উন্নত শারীরিক পরীক্ষার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে যাওয়ার অনুরোধ ও সমস্ত প্রকার সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে অলৌকিক ও আশ্চর্যজনকভাবে তাদের শরীরে দৃশ্যমান কোনো বড় আঘাত বা ক্ষত না লাগায় তারা হাসপাতালে যেতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। তবে চোখের সামনে নিশ্চিত মৃত্যুকে দেখার কারণে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ও ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছিল। ফলে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পিত ঢাকার যাত্রা বাতিল করেন এবং ভৈরব থেকে পুনরায় কটিয়াদীর লোহাজুড়ি গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান।"

### রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও যাত্রী সচেতনতার গুরুত্ব

ভৈরব স্টেশনের এই ঘটনাটি যেমন আমাদের এক বীর বাবার অসীম সাহসিকতার গল্প শোনায়, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং প্ল্যাটফর্মের নকশাগত ত্রুটির দিকেও আঙুল তোলে। দেশের প্রায় প্রতিটি রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, ট্রেনের কামরার ফুটবোর্ড এবং প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার দূরত্ব বা ফাঁকা জায়গাটি অনেক বেশি সুপ্রশস্ত ও বিপজ্জনক থাকে। ফলে ট্রেন থামার পর বা ট্রেন সচল হওয়ার সময় একটু অসতর্ক হলেই ছোট শিশু বা বয়স্ক যাত্রীরা এই ফাঁকা জায়গায় পড়ে গিয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হন।

তাছাড়া, আমাদের দেশের সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের পর ট্রেন এলে হুড়োহুড়ি করে ওঠার একটি মারাত্মক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ট্রেন সম্পূর্ণ থামার আগেই চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা কিংবা ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর তাড়াহুড়ো করা জীবনের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, ভৈরব স্টেশনের এই ঘটনাটি তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিটি স্টেশনে প্ল্যাটফর্মের ফাঁকা জায়গাগুলো যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় আরও বেশি সিসিটিভি ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা।

### উপসংহার: পিতৃত্বের মহিমান্বিত জয় ও এক জীবন্ত অলৌকিক গল্প

পরিশেষে বলা যায়, ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সেই ধুলোবালি আর পাথরে মোড়ানো রেললাইনটি গত মঙ্গলবার কেবল একটি সাধারণ দুর্ঘটনাস্থল ছিল না, বরং সেটি ছিল পিতৃস্নেহের এক মহিমান্বিত ও অমর মহাকাব্য রচনার মঞ্চ। নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখে সঁপে দিয়ে সন্তানকে বাঁচানোর এই গল্প আগামী বহু বছর ধরে বাংলার মানুষের মনে বেঁচে থাকবে। বিজ্ঞান হয়তো এই রক্ষা পাওয়ার ঘটনাকে একটি অবিশ্বাস্য কাকতালীয় ঘটনা বলতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষ এটিকে দেখছেন সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া এবং বাবার পবিত্র ভালোবাসার এক জীবন্ত অলৌকিক নিদর্শন হিসেবে। ‘দিগন্ত বাংলা নিউজ’ পোর্টালের পক্ষ থেকে আমরা এই বীর পিতাকে জানাই আমাদের সশ্রদ্ধ সালাম। দেশের প্রতিটি কোণের এমন মানবিক, রোমাঞ্চকর এবং সত্য ঘটনাগুলো প্রফেশনাল ও নিখুঁত উপায়ে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে আমরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন