কর্মচারী থেকে ১৭ ফ্ল্যাটের মালিক! বিটিভি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য

কর্মচারী থেকে ১৭ ফ্ল্যাটের মালিক! বিটিভি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত
 কর্মচারী থেকে ১৭ ফ্ল্যাটের মালিক! বিটিভি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | দিগন্ত বাংলা নিউজ / ২৯ এপ্রিল ২০২৬

​রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত কর্মকর্তারা। বিশেষ করে উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সিরাজুল হক ভূঞা এবং সহকারী পরিচালক মো. শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

বইয়ের লেখনীতে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে কটাক্ষ

​সম্প্রতি সিরাজুল হক ভূঞার রচিত ‘স্মৃতি ও প্রকৃতি’ নামক বইয়ের বেশ কিছু লেখা নিয়ে বিটিভির ভেতরে-বাইরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বইটিতে তিনি ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে পরোক্ষভাবে দেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। সরকারি উচ্চপদে থেকে রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার এবং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তার এই লেখনী পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগ বাণিজ্য ও আত্মীয়করণ

​অভিযোগ রয়েছে, গত সরকারের আমলে এই দুই কর্মকর্তা বিটিভিতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা বলয় গড়ে তোলেন। লিখিত পরীক্ষায় ফেল করা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে তারা নিজেদের আত্মীয়স্বজনকে বিটিভিতে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • ​নিরাপত্তা প্রহরী মো. রফিকুল হক ভূঞা
  • ​ট্রান্সমিশন টাইপিস্ট মো. ইব্রাহিম খলিল
  • ​উপসহকারী প্রকৌশলী ফারুমা আক্তারসহ আরও অনেকে।

কর্মচারী থেকে কোটিপতি: সিরাজুলের সম্পদের পাহাড়

​বিটিভির সূত্রগুলো জানায়, সিরাজুল হক ভূঞা ১৯৮৯ সালে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী (ষাটলিপিকার) হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:

  • ​বনশ্রী প্রজেক্টের এম ব্লকে ১০.৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন 'জমজম টাওয়ারে' ১৭টি নিজস্ব ফ্ল্যাট।
  • ​আফতাব নগরের এইচ ব্লকে স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
  • ​বনশ্রীর এফ ব্লকে আরও একটি আলিশান ফ্ল্যাট।

রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি

​অপর কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও হাসানুল হক ইনুর আত্মীয় পরিচয়ে বিটিভিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা দুর্নীতির দায়ে একাধিকবার শাস্তিমূলক বদলি হলেও অদৃশ্য ক্ষমতায় বারবার বিটিভিতেই ফিরে আসেন।

হুমকিতে বর্তমান সরকার!

​বিটিভির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, এই দুই ‘মুজিবপ্রেমী’ কর্মকর্তা এখনো নিজ নিজ পদে বহাল থেকে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে থেকে তাদের এই আধিপত্য সাধারণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে। অবিলম্বে তাদের অপসারণ ও অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিটিভির সংশ্লিষ্টরা।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন