চুরি করতে গিয়ে খাটের নিচে লুকিয়েছিলেন, কিন্তু নেশার ঘোরে সেখানেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন চোর। শেষমেশ ঘুমন্ত অবস্থায় হাত খাটের বাইরে বেরিয়ে আসায় ধরা পড়লেন গৃহকর্ত্রীর হাতে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঘটে যাওয়া এই অদ্ভুত ও হাস্যকর ঘটনার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পেন্নাই গ্রামের বারেক কন্ট্রাক্টরের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চোরের নাম মো. সোহেল, যিনি পাশের মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
যেভাবে ধরা পড়লেন চোর:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গভীর রাতে সোহেল ওই বাড়ির একটি ভাড়া বাসার রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢোকার পর বাড়ির লোকজন সজাগ রয়েছে বুঝতে পেরে তিনি তড়িঘড়ি করে একটি খাটের নিচে গিয়ে লুকান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে করতে এক পর্যায়ে তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন।
ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে ঘরের বাসিন্দা ওই নারী দেখতে পান, খাটের নিচ থেকে মেঝেতে একটি হাত পড়ে আছে। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খাটের নিচে ভালো করে তাকিয়ে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি মশারির নিচে আয়েশ করে ঘুমাচ্ছেন।
অতঃপর উদ্ধার অভিযান:
উপস্থিত জনতা জানান, চোর সোহেল এতটাই গভীর ঘুমে ছিলেন যে তাকে ডেকে তুলতে হিমশিম খেতে হয় সবাইকে। শেষ পর্যন্ত মাথায় পানি ঢেলে তার ঘুম ভাঙাতে হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, খাটের ওপর একটি শিশু শান্তিতে ঘুমাচ্ছে আর নিচে চোর সোহেল অঘোরে ঘুমিয়ে আছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বক্তব্য:
গৌরীপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রকিব উদ্দিন জানান, সোহেল একজন পেশাদার চোর ও মাদকসেবী। চুরির আগে নেশা করায় তিনি নিজেকে সামলাতে না পেরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে সকালে স্থানীয়রা তাকে সামান্য উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল বারী জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।