প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ধর্মের ভিন্নতা কিংবা দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান—কোনো কিছুই যে হৃদয়ের গভীর আত্মিক টানকে ম্লান করতে পারে না, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন পল্লবী সাহা। শৈশবের সোনালী দিনে হারিয়ে যাওয়া তাঁর প্রিয় প্রানের বান্ধবী শিউলীকে পুনরায় ফিরে পেতে বিগত ৩৪টি বছর ধরে এক হৃদয়দগ্ধ অপেক্ষা লালন করে যাচ্ছেন তিনি। দুই ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়েও শৈশবের অবুঝ দিনগুলোতে তাঁদের বন্ধনটি ছিল 'দুই দেহে এক আত্মা'র মতো নিখাদ। প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমানুষের সহায়তায় সেই প্রাণের বান্ধবীকে আরও একবার দেখার ব্যাকুল আকুতি নিয়ে সিরাজগঞ্জবাসীসহ সারা দেশের মানুষের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন পল্লবী।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুর সরকারি কলেজে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপের দল গঠনের নির্দেশ
বান্ধবীকে খুঁজে বের করার জন্য পল্লবী সাহা স্মৃতিচারণ করে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সূত্র প্রকাশ করেছেন, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
- বান্ধবীর নাম: শিউলী (শৈশবের খেলার সঙ্গী)।
- বাবার নাম ও পেশা: শিউলীর বাবার নাম মোঃ রমজান আলী, যিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- স্থায়ী ঠিকানা/গ্রামের বাড়ি: সম্ভাব্য প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিউলীদের স্থায়ী বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানায়।
- পরিবারের সদস্য বিবরণ: শিউলীদের পরিবারে চার বোন এবং এক ভাই ছিলেন।
- বন্ধুত্বের স্মৃতিপট: শিউলীর বাবা চাকরি সূত্রে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালে প্রথম পল্লবী ও শিউলীর মধ্যে এই চির অমলিন বন্ধুত্বের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে তাঁর বাবা রংপুর শহরের মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি হয়ে আসেন।
- সর্বশেষ সাক্ষাৎ: ১৯৯২ সালে পল্লবী তাঁর মায়ের সঙ্গে রংপুর মাহিগঞ্জে শিউলীদের বাড়িতে দেখা করতে যান। সেটিই ছিল তাঁদের জীবনের শেষ সরাসরি দেখা ও বিদায়।
- যোগাযোগের মাধ্যম: একসময় ডাকযোগে চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে ভাব ও ভালোবাসা বিনিময় চলত। সেই চিঠি চালাচালির সময়ই শিউলী তাঁর একটি ছবি ডাকযোগে পল্লবীকে পাঠিয়েছিলেন, যা আজও পরম মমতায় স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
পল্লবী সাহা অত্যন্ত সজল চোখে স্মৃতি রোন্থন করে জানান যে, শৈশবের সেই নিষ্কলঙ্ক বন্ধুত্বে ধর্ম কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও বান্ধবীর মিষ্টি মুখটি দেখার তৃষ্ণা তাঁর হৃদয় থেকে বিন্দুমাত্র মোছেনি।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনায় উদ্ধারে গিয়ে নিজের ছেলেকে মৃত দেখলেন পুলিশ বাবা!
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বহুল ব্যবহারের এই যুগে তিনি আশাবাদী যে, সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ এলাকা বা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য পরিবারের কেউ না কেউ এই তথ্যের ভিত্তিতে শিউলীর পরিবারকে শনাক্ত করতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জবাসী যদি এই তথ্যটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দেন, তবে ৩৪ বছর আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুটি আত্মিক বন্ধু আবারও এক সুতোয় বাঁধা পড়তে পারে।
সংবাদ সূত্র: পল্লবী সাহার মানবিক আবেদন ও দিগন্ত বাংলা নিউজ অনলাইন স্পেশাল ডেস্ক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।