প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ শিল্পাঞ্চল সাভারে চলন্ত গণপরিবহনে এক নারী যাত্রীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের চেষ্টার গুরুতর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনার তাৎক্ষণিকতায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর '৯৯৯'-এর সময়োপযোগী ব্যবহার এবং আশুলিয়া থানা-পুলিশের দ্রুত ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অভিযানের কারণে একটি সম্ভাব্য বড় ধরনের অপরাধ রোখা সম্ভব হয়েছে। সড়ক অবরোধ ও ব্যারিকেড দিয়ে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করার পাশাপাশি ঘটনায় সরাসরি জড়িত পরিবহন চালক, হেলপার ও তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ প্রশাসন।
আরও পড়ুন: ৩৪ বছর পর শৈশবের বান্ধবী শিউলীকে খুঁজছেন পল্লবী
পুলিশি তথ্য ও ঘটনার অনুসন্ধানে জানা গেছে, মধ্যরাতে ঢাকার গাবতলী বাসটার্মিনাল থেকে সাভারের নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘সাভার পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন এক নারী ও তাঁর এক পরিচিত ব্যক্তি। বাসটি নবীনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছামাত্রই মূল চালক গাড়ি চালানোর দায়িত্ব তুলে দেন তাঁর সহকারী বা হেলপারের হাতে। এরপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালক উক্ত নারীর সফরসঙ্গী পুরুষটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেন। পরবর্তীতে গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হেলপার ও তার সহযোগী হাতে নিয়ে গন্তব্য পরিবর্তন করে দ্রুত গতিতে সাভারের দিকে ছুটতে থাকে। ফাঁকা চলন্ত বাসে জঘন্য এ অপরাধমূলক আচরণ শুরু করে অভিযুক্তরা।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়:
- ঘটনার স্থান ও সময়: সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানাধীন বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা (শনিবার দিবাগত গভীর রাতে)।
- গ্রেপ্তারকৃত আসামি ১ (চালক): মো. ইমরান (৩৫)।
- গ্রেপ্তারকৃত আসামি ২ (সহকারী/হেলপার): মো. মুসফেকুর রহমান (২০)।
- গ্রেপ্তারকৃত আসামি ৩ (চালকের সহযোগী): মো. সুমন প্রামাণিক (৩০)।
- উদ্ধার ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া: বাস থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়া ওই ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ মহাসড়কে একটি বাস দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে দ্রুত গাড়িটির গতি রোধ করে। ঘটনাস্থল থেকেই হেলপার ও তার সহযোগীকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে পৃথক অভিযানে ড্রাইভার ইমরানকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
- আইনি পদক্ষেপ: ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গণপরিবহনে নারী নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চক্ষু সেবা ও স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে হেলেন কেলারের সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক
৯৯৯-এর বার্তা পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের চৌকস টিম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মহাসড়কে ব্যারিকেড স্থাপন করতে সক্ষম হওয়ায় আসামিরা রেহাই পায়নি। ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত ৩ জন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
সংবাদ সূত্র: আশুলিয়া থানা পুলিশ মিডিয়া সেল ও দিগন্ত বাংলা নিউজ অনলাইন রিপোর্ট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।