শাহজাদপুর ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করতে এবং তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং অবহেলিত নারী সমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদ শহীদ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত হয় এক বিশেষ সুধী সমাবেশ ও উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের পরিচালনায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, প্রফেসর ডক্টর এম এ মুহিত। স্থানীয় এডিপি বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ থেকে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য উন্নতমানের সেলাই সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কিশোরী ও তরুণীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিষয়টি সহজতর করতে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ‘ভেন্ডিং মেশিন’ তুলে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: একসঙ্গে মরার চুক্তি: প্রেমিক যমুনায় ঝাঁপ দিতেই কেটে পড়লেন প্রেমিকা!
স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত: অসচ্ছল নারীদের কর্মসংস্থান
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল থেকে বাছাইকৃত দুস্থ, স্বামীপরিত্যক্তা ও কর্মক্ষম নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই ছিল এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য। গৃহস্থালি কাজের বাইরেও নিজের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে যেন নারীরা অর্থ উপার্জন করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাদের হাতে সেলাই মেশিন হস্তান্তর করা হয়।
এই উদ্যোগ স্থানীয় সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে:
- পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্য ও বাড়তি আয়: গৃহভিত্তিক দর্জি পেশার মাধ্যমে নারীরা তাদের পরিবারে প্রয়োজনীয় আর্থিক অবদান রাখতে পারবেন।
- নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি: অর্থনৈতিকভাবে সচল হওয়ার ফলে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
- স্থানীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি: গ্রামভিত্তিক এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলো পুরো শাহজাদপুর অঞ্চলের কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
কিশোরী স্বাস্থ্য ও প্রজনন সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন
প্রান্তিক সমাজের রক্ষণশীল মানসিকতা ও লোকলজ্জার ভয় ভেঙে নারীদের বয়ঃসন্ধিকালীন হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্যানিটারি ন্যাপকিনের স্বয়ংক্রিয় ‘ভেন্ডিং মেশিন’ চালুর নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন সুরক্ষায় এটি একটি নতুন মাইলফলক।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
- জরুরি প্রয়োজনে সেবা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা এখন থেকে খুব সহজেই এবং সস্তা মূলে স্যানিটারি ন্যাপকিন সংগ্রহ করতে পারবে।
- বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি: পিরিয়ডকালীন সময়ে অনেক ছাত্রী স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয় বা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ে। এই সংকট নিরসনে ভেন্ডিং মেশিন অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
- জরায়ু ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা: অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহারের কারণে জরায়ুর সংক্রমণসহ যেসব জটিল রোগে নারীরা ভোগেন, আধুনিক এই সামগ্রী ব্যবহারে তা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের নির্দেশনামূলক বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত এমপি বলেন, নারীদের বাদ দিয়ে সমাজ কিংবা দেশের কোনো সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বৈপ্লবিক কাজ সম্পাদন করছে।
তিনি আরও ব্যক্ত করেন যে, শাহজাদপুরের সর্বস্তরের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং এই জনপদকে দেশের একটি রোল মডেল উপজেলায় পরিণত করা তাঁর প্রধান অঙ্গীকার। সরকারি তদারকিতে যেসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে, সেগুলোর সঠিক যত্ন ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের আশাবাদ
শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত থেকে সরকারি কল্যাণমূলক কাজের সঠিক বাস্তবায়ন তদারকির আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে সরকারি উপহার সামগ্রী পেয়ে উপস্থিত প্রান্তিক নারীরা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা শাহজাদপুরের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে এবং প্রজনন সচেতনতা বাড়াতে দীর্ঘদিন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে স্থানীয় সুশীল সমাজ অভিমত প্রকাশ করেছেন।
সংবাদ সূত্র: শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।