প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
শাহজাদপুরে ২২ বছর পর জন্মানো শিশুর হৃদয়স্পর্শী আকুতি: বাঁচাতে চান বাবা-মা
সন্তানের হাসিমুখ প্রতিটি মা-বাবার কাছেই পৃথিবীর সেরা উপহার। আর সেই সন্তান যদি পরম দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মা-বাবার কোল আলো করে আসে, তবে তার মূল্য আর আবেগের পরিমাপ করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনই এক অলৌকিক ও আবেগঘন ঘটনার সাক্ষী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়ন। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার দীর্ঘ ২২টি বছর নিখাদ প্রার্থনা ও অপেক্ষার পর একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল দিনমজুর আবু বক্কর সিদ্দিক ও তার স্ত্রীর। পরম মমতায় মেয়ের নাম রাখা হয় জান্নাতুল ফেরদৌস। কিন্তু সেই অনাবিল আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই জান্নাতুলের অসুস্থতা পরিবারটিতে নেমে এনেছে ঘনিভূত অমাবস্যার অন্ধকার।
বর্তমানে শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের বয়স খুবই অল্প, কিন্তু এই বয়সেই সে এক কঠিন ও জীবনঘাতী ব্যাধির মুখোমুখি। জন্ম থেকেই শিশুটির হৃদযন্ত্রে বা হার্টে দুটি জটিল ছিদ্র ধরা পড়েছিল। চিকিৎসকদের নিবিড় নজরদারিতে শিশুটিকে রাখা হলেও সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জান্নাতুলের হার্টের রক্তনালীতে গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে অবিলম্বে একটি জরুরি অস্ত্রোপচার বা অপারেশন করা প্রয়োজন। কালক্ষেপণ করা হলে অবোধ শিশুটির জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরম কাঙ্ক্ষিত সেই সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখতে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হতদরিদ্র মা-বাবা।
আরও পড়ুন: ফেনীর ফুলগাজীতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণসহ প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ
শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা পূর্বপাড়া গ্রামের অধিবাসী আবু বক্কর সিদ্দিকের নিজস্ব কোনো জমি বা বসবাসের মতো স্থায়ী ভিটেমাটি নেই। তিনি পেশায় একজন সাধারণ দিনমজুর, যার দৈনিক উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে কোনোমতে পরিবারের অভাব-অনটনের সংসার চলে। মাথা গোঁজার নিজস্ব স্থান না থাকায় বর্তমানে তারা সাবেক স্থানীয় ইউপি সদস্য বহুত আলী মেম্বারের আশ্রয়ে তার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। নিজের বলতে যাদের কিছুই নেই, সেই অসহায় পিতা-মাতার কাছে চিকিৎসকদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সম্ভাব্য খরচের হিসাবটি এক বিশাল পাহাড় সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের দেয়া তথ্য ও পরামর্শ অনুযায়ী, জান্নাতুলের হার্টের এই জরুরি অপারেশন এবং আনুষঙ্গিক চিকিৎসার জন্য আনুমানিক ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা প্রয়োজন। একজন দিনমজুরের পক্ষে যেখানে দৈনিক নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা এক অসম্ভব অবাস্তব স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। সহায়-সম্বলহীন এই মা-বাবা নিজেদের জমানো সব সঞ্চয় এবং স্বজনদের সহযোগিতার পরও চিকিৎসার খরচের সামান্য অংশও মেটাতে পারছেন না। ফলে নিজেদের চোখের সামনে কলিজার টুকরো সন্তানের করুণ পরিণতি দেখে চোখের জলে দিন কাটাচ্ছেন এই নিঃস্ব দম্পতি।
আরও পড়ুন: ৩৪ বছর পর শৈশবের বান্ধবী শিউলীকে খুঁজছেন পল্লবী
সন্তানকে বাঁচাতে আর কোনো উপায় না দেখে অসহায় মা-বাবা এখন সমাজের দয়ালু, বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। আকুল কন্ঠে মা-বাবার একটাই আকুতি, যদি সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিরা সামান্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো তাদের ২২ বছরের সাধনার ধন জান্নাতুল নতুন জীবন ফিরে পাবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, প্রবাসী ভাই-বোন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর কাছে জান্নাতুলের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার সাকুল্যে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমাদের সবার সামান্য সহমর্মিতা ও আর্থিক সহযোগিতাই পারে এই মাসুম শিশুটিকে সুস্থ ও সুন্দর একটি জীবন ফিরিয়ে দিতে।
পবিত্র মানবিক দায়িত্ব থেকে অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এবং শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের চিকিৎসার জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন তার পরিবারের সাথে কথা বলে। পরিবারের যোগাযোগের নম্বর ও বিকাশ/নগদ (পার্সোনাল) অ্যাকাউন্ট: ০১৬২৪৪৯৪০৫৮। চলুন, আমরা সবাই মিলে জান্নাতুলের হাসিমুখ ফিরিয়ে আনতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই।
সূত্র: সরাসরি ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় প্রতিনিধি, দিগন্ত বাংলা নিউজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।