প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার অন্যতম পর্যটন ও প্রশাসনিক এলাকা কাপ্তাই উপজেলায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রশাসন কর্তৃক এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। পার্বত্য এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্যের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের অনিয়ম দূর করতে উপজেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ অপরাহ্ণে কাপ্তাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যালয় আপস্ট্রিম জেটিঘাট বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের মূল নেতৃত্বে ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হানুল ইসলাম। বাজার মনিটরিং এবং স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের বিরুদ্ধে এই আকস্মিক তদারকি অভিযান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: কাজীপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
অভিযান চলাকালে আপস্ট্রিম জেটিঘাট বাজার এলাকার বিশিষ্ট খাবার প্রতিষ্ঠান 'দ্বীপ রেস্টুরেন্ট'-এ বিস্তারিত ও নিবিড় পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হয়। এই সময় রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর এবং খাবার সংরক্ষণের ফ্রিজ পরীক্ষা করে দেখা যায় যে সেখানে চরম অস্বাস্থ্যকর ও বৈজ্ঞানিক নিয়মবহির্ভূত উপায়ে একই সাথে কাঁচা মাংস, কাঁচা মাছের পাশাপাশি পূর্বে তৈরি করা রান্না করা বাসি ও নষ্ট খাবার একত্রিত করে গাদাগাদি করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এভাবে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই ফ্রিজে উন্মুক্ত বা অস্বাস্থ্যকরভাবে রাখা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এই অপরাধের সরাসরি প্রমাণ মেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দ্বীপ রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারীকে নগদ ৫০০ (পাঁচশত) টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা আদায় সম্পন্ন করা হয়।
কেবল জরিমানা আদায়েই অভিযানের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল না। সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক এবং পচে যাওয়া মেয়াদের বাইরে থাকা বাসি ও নষ্ট খাবারগুলো বাজেয়াপ্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে প্রকাশ্যে পানিতে ফেলে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া উক্ত বাজার সংলগ্ন অপর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স হাফিজ স্টোর'-এ বিক্রয়ের জন্য রক্ষিত বোতলজাত ও খোলা সরিষার তেল সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ও রাসায়নিক বিশুদ্ধতা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বেশ কিছু পণ্যের অফিসিয়াল নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত এসব নমুনা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ভেজাল পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতেই এই সতর্কতামূলক নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: আগামী দু’বছরে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে: ববি হাজ্জাজ
অভিযান শেষে গণমাধ্যমকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদানকালে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রায়হানুল ইসলাম জানান যে, কাপ্তাই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও বাণিজ্যিক এলাকা। এখানে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ ও পর্যটক প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণ করে থাকেন। ফলে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো ধরনের পচা, বাসি বা ভেজাল খাদ্য পরিবেশন করতে দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীদের ভোক্তা অধিকার আইন ও নিরাপদ খাদ্য নীতিমালা শতভাগ মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য জোর তাগিদ দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পুনরায় এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশনের সাথে যুক্ত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন তিনি।
অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সার্বিক সহায়তায় ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ তোফায়েল আহাম্মদ, কাপ্তাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দীন সরকার এবং স্থানীয় থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাবৃন্দ। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতকে পূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করে। কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসনের এমন নিয়মিত ও কঠোর তদারকি অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ জনগণ ও সচেতন সুশীল সমাজ।
সংবাদ সূত্র: কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন তথ্য সেল ও দিগন্ত বাংলা নিউজ এর পাহাড় অঞ্চল প্রতিনিধি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।