প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলা শহরের সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের ভয়াল মহড়া ও আতঙ্ক সৃষ্টির চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দলিল লেখক সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সাধারণ ভোটার ও নাগরিকদের মধ্যে ভীতির পরিবেশ তৈরি এবং প্রকাশ্য মহড়া দেওয়ার অপরাধে মাসুদ পারভেজ রনি (৪০) নামের এক প্রার্থীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ প্রত্যূষে সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া অঞ্চলের অপরাধ নির্মূল অভিযানের অংশ হিসেবে বগুড়া সদর থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক সুসংগঠিত যৌথ কমান্ডো দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ধৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহড়ায় ব্যবহৃত বিশাল আকৃতির একটি ভয়ংকর ধারালো দেশীয় অস্ত্র বা ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাপ্তাইয়ে ফ্রিজে বাসি ও কাঁচা খাবার রাখায় রেস্টুরেন্টকে জরিমানা
ঘটনাক্রম পর্যালোচনা করে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচন অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। তবে ভোটের আনুষ্ঠানিক গণনা ও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পূর্বমুহূর্তে কার্যালয়ের বাইরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উক্ত নির্বাচনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং সমিতির নিবন্ধিত সদস্য (লাইসেন্স নম্বর-৪৬৩) মাসুদ পারভেজ রনি হঠাৎ করেই মেজাজ হারিয়ে উন্মাদ আচরণ শুরু করেন। তিনি নিজ দায়িত্বে থাকা একটি বড় আকারের লোহার ধারালো অস্ত্র প্রকাশ্যে বের করে জনসম্মুখে উঁচিয়ে ধরেন এবং একাই হুঙ্কার ছেড়ে লম্পঝম্প করতে থাকেন। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ভয়ংকর অস্ত্রের মহড়ার ঘটনা উপস্থিত সাধারণ ভোটার, দলিল লেখক ও পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করে।
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত মহড়ার দৃশ্য সেখানে থাকা সাধারণ মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়নি। ঘটনার সময় ধারণ করা একাধিক ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে সারাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তোলে। ভিডিওতে প্রার্থীর এমন বেপরোয়া আচরণ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চিত্র উঠে আসায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সম্ভাব্য আইনি গ্রেফতার এড়াতে অভিযুক্ত রনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি বগুড়ার পুলিশ সুপার মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে এবং অপরাধীকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে সদর থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশকে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে ‘জামিরতা ভিশন সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী!
পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনার পর বগুড়া সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার একাধিক চৌকস টিম একযোগে তদন্তে নামে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক প্রার্থীর সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। ২৫ জুলাই শনিবার ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর টিম বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানকার একটি আবাসিক ভবনে আসামির প্রথম স্ত্রীর পিতার বাড়ি থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মাসুদ পারভেজ রনিকে কোণঠাসা করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে সে ঘটনার দিন ব্যবহৃত মারাত্মক অস্ত্রটি নাটাইপাড়া এলাকার এক নির্জন স্থানে লুকিয়ে রেখেছিল।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামি রনিকে সাথে নিয়ে একই দিন সকাল ৭টার দিকে বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া কাজী মোড় সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার দেখানো নির্দিষ্ট স্থান থেকে মহড়ায় ব্যবহৃত একপাশ অত্যন্ত ধারালো, লোহার তৈরি এবং প্রায় ২৭ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি বিশালাকার দেশীয় ছোরা উদ্ধার ও জব্দ করেন অভিযানকারী পুলিশ সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত মাসুদ পারভেজ রনি বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া কবরস্থান এলাকার অধিবাসী মৃত ইলিয়াস মহুরীর ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র প্রদর্শন এবং সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের অপরাধে ধৃত আসামির বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় ১৮৭৮ সালের কঠোর অস্ত্র আইনে একটি বিশেষ নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংবাদ সূত্র: বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও দিগন্ত বাংলা নিউজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।