প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
মানবদেহের স্বাভাবিক বিকাশ, পেশি পুনর্গঠন, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের টিস্যু মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখার জন্য প্রোটিন অত্যন্ত অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। প্রোটিনকে মানবদেহের গঠনের প্রধান উপাদান বা বিল্ডিং ব্লক বলা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রোটিনের কথা ভাবলেই আমাদের মাথায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ কিংবা ডালের কথা চিন্তা আসে। কিন্তু নিরামিষভোজী বা যারা তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস পছন্দ করেন, তাদের অনেকেই জানেন না যে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কিছু নির্দিষ্ট সুস্বাদু ফল অন্তর্ভুক্ত করেই শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। ফলে প্রোটিনের পরিমাণ মাংস বা মাছের মতো অতটা বেশি না থাকলেও, নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে ফল গ্রহণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা সামগ্রিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অতুলনীয় অবদান রাখে।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেওয়া প্রার্থী অস্ত্রসহ গ্রেফতার
উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ ফলের তালিকায় অন্যতম প্রধান এবং পরিচিত ফল হলো পেয়ারা। সহজলভ্য এই দেশীয় ফলটিতে প্রোটিনের উপস্থিতি চমকপ্রদ। প্রতি এক কাপ পেয়ারায় প্রায় চার থেকে সাড়ে চার গ্রাম পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রোটিন পাওয়া যায়, যা সাধারণ যেকোনো ফলের তুলনায় অনেক বেশি। প্রোটিনের পাশাপাশি পেয়ারা ভিটামিন সি এবং ভোজ্য ফাইবারে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। নিয়মিত পেয়ারা খেলে তা শুধু মাংসপেশির সুরক্ষা ও প্রোটিনের জোগান বৃদ্ধি করে না, বরং শরীরের অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে, হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রক্তে শর্করা বা সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের বিকেলের নাস্তায় বা সালাদে পেয়ারা যুক্ত করা প্রোটিন গ্রহণের বেশ সহজ একটি উপায়।
শরীরে প্রোটিনের জোগান নিশ্চিত করতে আরও একটি অত্যন্ত কার্যকারী সুপারফুড হলো অ্যাভোকাডো। পুষ্টিবিজ্ঞানে অ্যাভোকাডোর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতি কাপ মাঝারি আকারের অ্যাভোকাডো থেকে প্রায় তিন থেকে চার গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। অন্যান্য ফলের তুলনায় অ্যাভোকাডোতে উপকারী ফ্যাট বা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ওমেগা থ্রি এর প্রাচুর্য রয়েছে। প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের এই বিরল সমন্বয় পেশি মজবুত করার সাথে সাথে হৃদযন্ত্র বা হার্টের কর্মক্ষমতা বহুগুণ বাড়ায় এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। অ্যাভোকাডো সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি স্মুদি বানিয়ে কিংবা টোস্টের সাথে ছড়িয়ে সেবন করলে প্রোটিনের দৈনন্দিন চাহিদা খুব সহজেই মেটানো সম্ভব হয়।
পুষ্টি উপাদানের বিবেচনায় কিউই ফলটিও প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উজ্জ্বল সবুজ রঙের এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক প্রোটিন বিদ্যমান থাকে। প্রতি এক কাপ কাটা কিউই ফল থেকে প্রায় দুই থেকে তিন গ্রাম বিশুদ্ধ প্রোটিন পাওয়া যায়। প্রোটিনের পাশাপাশি কিউইতে পটাশিয়াম, ভিটামিন কে, ভিটামিন ই এবং পর্যাপ্ত ফাইবার রয়েছে। নিয়মিত কিউই গ্রহণ করলে তা পেশির টিস্যুগুলোকে সতেজ রাখে, মাংসপেশির ক্লান্তি দূর করে এবং খাদ্য পরিপাকপ্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়তা করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য কিউই খাওয়া অত্যন্ত লাভজনক।
আরও পড়ুন: টেক্সট লিখলেই হবে ভিডিও, গুগলে যুক্ত হলো ডিজিটাল অবতার!
শুষ্ক বা শুকনো ফলের মধ্যে কিসমিস বা কিশমিশ এবং খুরমা খেজুর প্রোটিনের চমৎকার উৎস হিসেবে গণ্য হয়। ছোট এক কাপ শুকনো কিসমিস থেকে প্রায় তিন গ্রাম এবং সমান পরিমাণ খেজুর থেকে আড়াই থেকে তিন গ্রাম প্রাকৃতিক প্রোটিন লাভ করা যায়। এই শুকনো ফলগুলোতে প্রোটিনের সাথে প্রচুর আয়রন, পটাশিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্লুকোজ থাকে যা তাৎক্ষণিক শক্তির অভাব মেটাতে অনন্য। শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রমের পর শক্তির দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য ভিজিয়ে রাখা কিসমিস বা খেজুর প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে বিশেষ উপযোগী। এছাড়াও খেজুরে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করতে প্রভূত সাহায্য করে।
বাংলাদেশসহ পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফল কাঁঠাল ও পাকা কলা প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ দেশীয় রসালো ফল কাঁঠালে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন, খনিজ উপাদান এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা পেশির শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর। অন্যদিকে সহজলভ্য ফল কলায় প্রোটিনের পাশাপাশি প্রচুর পটাশিয়াম ও প্রোটিন শোষণে সাহায্যকারী নানা অনুজীব থাকে। নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাসের সাথে এসব তাজা ও পুষ্টিকর ফল যুক্ত করলে প্রোটিনের ঘাটতিজনিত দুর্বলতা, নখ ভেঙে যাওয়া বা চুলের রুক্ষতা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিক ফলের ওপর ভরসা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
সংবাদ সূত্র: জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউট এবং দিগন্ত বাংলা নিউজ এর স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন বিভাগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।