জাতীয় ডেস্ক: শামীম হোসাইন / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ঢাকা: দেশের প্রশাসনিক ও সরকারি অনুষ্ঠানমালার প্রচার-প্রচারণায় এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে সরকার। এখন থেকে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে প্রস্তুতকৃত প্রচারণামূলক সামগ্রী যেমন ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা বিলবোর্ডে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানের কোনো ধরনের ছবি প্রদর্শন বা ব্যবহার করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে এবং অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সরকারের নীতিগত পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানিদের কান্না দেখে ট্রাম্পের বিস্ময়: 'ভেবেছিলাম মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে'
আজ রবিবার (৫ জুলাই, ২০২৬) সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং বাধ্যতামূলক পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সরকারি অর্থায়নে আয়োজিত বিভিন্ন প্রচারণায় ব্যক্তির চেয়ে কাজের গুরুত্ব ও মূল বিষয়বস্তু বেশি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের মূল নির্দেশনা
আজ জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক পরিপত্রে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এই নতুন নীতিমালার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, সরকারি কোনো উদ্যোগ, প্রজেক্ট বা অনুষ্ঠান উপলক্ষে যেসব প্রচারণামূলক ব্যানার, ফেস্টুন, পিভিসি ডিজিটাল প্রিন্ট এবং বিলবোর্ড তৈরি করা হবে, সেগুলোতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনো ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
পরিপত্রে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে:
সাধারণ ছবির পাশাপাশি কোনো ধরনের থ্রিডি (3D) অ্যানিমেশন বা ত্রিমাত্রিক আঙ্গিক।
অন্য কোনো ডিজিটাল বা শৈল্পিক পরিমার্জিত রূপের ছবিও ব্যবহার করা যাবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা সরকারি, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
ব্যক্তিত্বের চেয়ে বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ
নতুন এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ব্যানার ও বিলবোর্ডে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রচারণার চেয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা সেবার মূল উদ্দেশ্যকে জনগণের সামনে ফুটিয়ে তোলা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সবসময় সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু বা থিমকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ: সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরালের পর মূলহোতা খোকন গ্রেফতার
প্রচারণামূলক সামগ্রীতে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়, তথ্যবহুল এবং অনুষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যসমূহ উপস্থাপন করতে হবে। ব্যানার বা বিলবোর্ডের নকশা বা ডিজাইন এমনভাবে সুচারুভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তা দেখামাত্রই ওই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য, সরকারের মূল বার্তা এবং প্রচারণার মূল বিষয়বস্তু খুব সহজেই এবং সুস্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় ছবি ব্যবহারের কারণে মূল বার্তা যাতে ঢাকা না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করতেই এই প্রফেশনাল ডিজাইন গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।
অনতিবিলম্বে কার্যকরের কঠোর বার্তা
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই পরিপত্রটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং 'অতীব গুরুত্বপূর্ণ' হিসেবে ঘোষণা করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই আদেশ জারির পর থেকেই তা অনতিবিলম্বে দেশের সকল সরকারি দপ্তরে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, আজ থেকেই দেশজুড়ে অনুষ্ঠিতব্য সকল সরকারি কর্মকাণ্ডে এই নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে। যদি কোনো দপ্তর বা কর্মকর্তা এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো ব্যানার বা বিলবোর্ডে ছবি ব্যবহার করেন, তবে তা সরকারি আদেশ অমান্য করার শামিল বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি অনুষ্ঠানে করদাতাদের টাকায় তৈরি বিলবোর্ডে বা ব্যানারে ছবি ব্যবহারের এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া একটি সুস্থ এবং আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার লক্ষণ। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, অন্যদিকে ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির ক্ষেত্রে এক ধরণের পেশাদারিত্ব এবং নান্দনিকতা ফিরে আসবে।
এখন থেকে সরকারি প্রচারণার মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষকে তথ্য দেওয়া এবং সচেতন করা, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রচার করা নয়। এই আদেশের পর থেকে মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বিভিন্ন অধিদপ্তরের প্রধানরা নিজ নিজ দপ্তরে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।