সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামান্য বাদানুবাদের জের ধরে এক তরুণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে খুনের ঘটনায় বড় আইনি অগ্রগতি হয়েছে। আলোচিত এই ইলিয়াস খান (২৬) হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ঘটনায় অবশেষে পাঁচজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করে রায়গঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই রায়গঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক চৌকস দল সংলগ্ন জেলা ও আশপাশের উপজেলায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই চিহ্নিত আসামিকে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
নিহত ইলিয়াস খান রায়গঞ্জ উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত কালিঞ্জা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাত্তার খানের ছেলে।
আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার!
মাঠের তুচ্ছ ঘটনা থেকে গভীর রাতের রক্তক্ষয়ী সংঘাত
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে কালিঞ্জা গ্রামের একটি উন্মুক্ত মাঠে যুবকদের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খেলা চলাকালে একটি সিদ্ধান্ত বা তর্ককে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে মো. ইলিয়াস খানের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হট্টগোল শুরু হয়। যদিও তখনকার মতো উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি সামলে নিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন, কিন্তু প্রতিপক্ষরা মনে হিংসা ও ক্ষোভ জমিয়ে রাখে।
পরবর্তীতে রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইলিয়াস খান কালিঞ্জা বাজার এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তৈরি হয়ে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরে নৃশংসভাবে একাধিক মারাত্মক কোপ ও ছুরিকাঘাত করা হয়। ইলিয়াসের আকুল চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে ঘাতকেরা স্থান ত্যাগ করে চম্পট দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইলিয়াসকে মৃত ঘোষণা করেন।
৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের
স্বজনকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল নিহতের পরিবার আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছে। মর্মান্তিক এই খুনের ঘটনায় নিহত ইলিয়াস খানের ভাই মো. রতন আলী খান বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ তদন্ত শেষে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করেছে।
কালিঞ্জা এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম জানান, রক্তক্ষয়ী ঘটনার খবর শোনামাত্রই রায়গঞ্জ থানা পুলিশ কালিঞ্জা বাজারে ছুটে আসে এবং কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে এলাকার পরিবেশ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনে।
রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সফল অভিযান ও আসামি গ্রেপ্তার
মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনার মূল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান জানান, অপরাধীদের কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার নীতিতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের গোপন অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে থানা থেকে গ্রিল কেটে নারী আসামির পলায়ন: কেরাণীগঞ্জে ধরে পাঠালো কারাগারে
অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ যে সফলতা অর্জন করেছে:
সিরাজগঞ্জ সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার: এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. রাসেল (৪২), পিতা- আব্দুল আজিত, সাং- কালিঞ্জা।
কামারখন্দ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার: অন্য এজাহারভুক্ত আসামি মো. সোহেল খান (৪০), পিতা- মৃত আব্দুল মোমিন খান, সাং- কালিঞ্জা।
আদালতে সোপর্দ: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃদের কড়া পুলিশি পাহারায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি মো. আহসানুজ্জামান আরও নিশ্চিত করেন যে, রায়গঞ্জ থানার বিশেষ টিম পলাতক বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কালিঞ্জা গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার রাখা হলেও বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
সংবাদ সূত্র: রায়গঞ্জ থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।