প্রতিবেদন: সুফিয়ান নোমান / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খামারশানিলা গ্রামে ১১ বছরের এক অবুঝ শিশুকে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক প্রধান আসামিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আত্মগোপনে থাকা ৫০ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম ওরফে রাকিবুল। ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় যৌথ সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে তাকে জালে তোলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরবর্তীতে রোববার (১৯ জুলাই) আসামিকে শাহজাদপুর থানা পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের কড়া নির্দেশ প্রদান করেন।
গোয়েন্দা তথ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় র্যাবের সমন্বিত অভিযান।
আরও পড়ুন: রণক্ষেত্র ভারতের দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট: পদযাত্রায় তুমুল সংঘাত!
র্যাবের জনসংযোগ শাখা ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন জামগড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় এই সুনির্দিষ্ট ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের মূল সমন্বয়ে কাজ করেছে বেশ কয়েকটি ইউনিট:
র্যাব-১২ সিপিসি-২ (পাবনা ক্যাম্প): স্থানীয় তদন্ত ও তথ্য জোগানে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
র্যাব-৪ সিপিসি-২ (ধামরাই ও আশুলিয়া অঞ্চল): মাঠপর্যায়ে ঘেরাও ও আসামিকে আটক নিশ্চিত করে।
র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা: আধুনিক ট্র্যাকিং ও আসামি চিহ্নিতকরণে ভূমিকা পালন করে।
গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রফিকুলের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই আশুলিয়ার জামগড়ায় অভিযান চালিয়ে শাহজাদপুর থানার ১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলাম ওরফে রাকিবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট, গণঅসন্তোষ ও বাড়িঘর ভাঙচুর
প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ জুন দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার খামারশানিলা গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম নিজ বাসভবনে ফাঁকা পেয়ে ওই এলাকার ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা হুমকি দিয়ে জঘন্য নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই ঘটনার পরদিন (২৯ জুন) অভিযুক্ত লম্পট রফিকুল পুনরায় শিশুটির ওপর নির্যাতনের চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগী শিশুটি কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে রক্ষা পায়।
পরবর্তীতে মারাত্মক ট্রমার শিকার হয়ে শিশুটি তার পরিবারকে সব ঘটনা খুলে বলে। খবরটি গ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে খামারশানিলা গ্রামসহ সমগ্র শাহজাদপুরে তীব্র জনরোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন জনতা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত রফিকুলের বাড়িতে হামলা চালায় এবং সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি মারাত্মক মোড় নিলে খবর পেয়ে র্যাবের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানায় এবং গ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আরও পড়ুন: সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই
মামলা দায়ের এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ
উক্ত ন্যক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় রফিকুল ইসলাম রাকিবুলকে প্রধান আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই নিজেকে বাঁচাতে চতুর রফিকুল গ্রাম ছেড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে চলছিলেন।
র্যাব কর্মকর্তা ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামি রফিকুলকে শাহজাদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ রোববার (১৯ জুলাই) শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাকে কড়া নিরাপত্তায় সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। শুনানির সময় মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিজ্ঞ বিচারক আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।
সংবাদ সূত্র: শাহজাদপুর থানা পুলিশ এবং র্যাব-১২-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।