বদলগাছীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, এসকাফ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার ৩

বদলগাছীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, এসকাফ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার ৩
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

নওগাঁ জেলায় মাদকের অবৈধ রুট বন্ধ ও চিহ্নিত কারবারিদের শিকড় উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোপন জনসংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি শক্তিশালী আভিযানিক দল বদলগাছী থানা এলাকায় সফল অভিযান সম্পন্ন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক রাত ০৯:০০ ঘটিকার সময় সংঘটিত এই অভিযানে মোট ১০ বোতল নিষিদ্ধ এসকাফ (ESKUF) ফেনসিডিল, মাদক বিক্রয়ের নقد নগদ ১১ হাজার ১২০ টাকা জব্দ করা হয়। একই সাথে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মূল হোতাসহ মোট ৩ জন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবি পুলিশ।

আরও পড়ুন: বেড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১০ লক্ষ টাকার চায়না দুয়ারি জাল ও মেশিন জব্দ

অভিযানের ঘটনাক্রম ও পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম গোপন সংবাদ পেয়ে বদলগাছী উপজেলার পিন্ডিরা গ্রামস্থ ‘সিয়াম্যের ভাই-বোন ট্রেডার্স’ নামক টিনের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে। উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত প্রথম দুই ব্যক্তি হলেন পিন্ডিরা গ্রামের মৃত ওসমান আলীর পুত্র মোঃ আব্দুল মালেক মিল্টন (৪০) এবং জগন্নাথপুর গ্রামের নুরুল সরদারের পুত্র আল আমিন (৩৩); উভয়ের বাড়ি বদলগাছী থানা এলাকায়। তল্লাশিকালে আসামী আল আমিনের কাছ থেকে ২ বোতল নিষিদ্ধ এসকাফ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন স্বীকার করে যে, উদ্ধারকৃত মাদক দোকানের মালিক আব্দুল মালেক মিল্টনের এবং তার আরও মাদকদ্রব্য স্থানীয় শরীফুলের দোকানে রাখা আছে।

আরও পড়ুন: রামগড়ে কনেপক্ষকে জরিমানা ও মুচলেকায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি কালবিলম্ব না করে জিয়ল গ্রামের কসিমুদ্দিনের পুত্র আসামী শরীফুল (৩৮)-এর ফ্লেক্সিলোডের দোকানে তল্লাশি চালায়। দোকান তল্লাশিকালে একটি সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে আরও ৩ বোতল এসকাফ ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। ধৃত ৩ নং আসামী শরীফুল স্বীকার করে যে, সে মূল কারবারি মালেকের হয়ে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত এবং কাস্টমারদের কাছে মালামাল পৌঁছে দিয়ে বিক্রির টাকা মালেককে বুঝিয়ে দিত। শরীফুলের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা আব্দুল মালেকের বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির পেছনের একটি গর্তের ভেতর লুকিয়ে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে আরও ৫ বোতল এসকাফ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। একই সাথে আসামী আল আমিনের হেফাজত থেকে মাদক বিক্রির নগদ ১১ হাজার ১২০ টাকা আলামত হিসেবে ক্রোক করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রধান আসামী আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে বেআইনি মাদকদ্রব্য দেশে এনে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারি কেনাবেচা করে আসছিল। এই সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত তিন আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় বদলগাছী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র: জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও নওগাঁ জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন