মানহানি মামলায় মালয়েশিয়ার আদালতে অভিবাসী কর্মী অ্যান্ডি হলকে ৫ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা

মানহানি মামলায় মালয়েশিয়ার আদালতে অভিবাসী কর্মী অ্যান্ডি হলকে ৫ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র মালয়েশিয়ায় বহুল পরিচিত ও বিতর্কাধীন অভিবাসী অধিকার কর্মী অ্যান্ডি হলের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক বিচারিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চার বছর পূর্বে জনৈক মালয়েশীয় বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার দায়ের করা দুটি পৃথক মানহানি মামলার দীর্ঘ আইনি শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে এই রায় দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু হাইকোর্ট উক্ত বিতর্কিত অধিকার কর্মীকে মোট ৫ লক্ষ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (যা বাংলাদেশি মুদ্রা পরিমাপে প্রায় দেড় কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করার সুনির্দিষ্ট আইনি রুলিং প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ বিচারিক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ওই আদালত এই তাৎপর্যপূর্ণ রায়টি জনসমক্ষে পেশ করেন।

আরও পড়ুন: বদলগাছীতে ডিবি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, এসকাফ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার ৩

আদালতের প্রশাসনিক সূত্রে জানায়, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু হাইকোর্টের সম্মানিত বিচার বিভাগীয় কমিশনার নোরাদুরা হামজাহ রায় প্রদানকালে পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করেন যে, অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান 'এমবুন কারিসমা রিসোর্সেস'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর মুথুসামি বিবাদী অ্যান্ডি হলের বিরুদ্ধে আনীত চরিত্রহনন ও মানহানির যাবতীয় অভিযোগ আইনসম্মত প্রমাণাদিসহ বিচারালয়ে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও মামলার শুনানি এবং রায় ঘোষণাকালীন সময়ে অভিযুক্ত অধিকার কর্মী অ্যান্ডি হল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বিচারালয়ে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন না। যার ভিত্তিতে আদালত প্রমাণের নিরিখে এই চূড়ান্ত আর্থিক জরিমানার সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: শাহজাদপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ২ সন্তানের জননীর

ঘোষিত রুলিংয়ে আদালত কেবল ক্ষতিপূরণের জরিমানাই আরোপ করেনি, বরং অভিযুক্ত হলকে অবিলম্বে যেকোনো মাধ্যম ও ফোরামে অভিযোগকারী ব্যক্তিত্ব ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর, কুৎসাপূর্ণ কিংবা ভিত্তিহীন বিবৃতির প্রকাশনা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধান প্রধান জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব ভেরিফাইড প্রোফাইল থেকে প্রকাশ্যে মুথুসামির নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আদেশও বলবৎ করা হয়েছে।

উক্ত মামলার অতীত প্রেক্ষিত অনুসরণে জানা যায় যে, ২০২২ সালের ১২ই এপ্রিল দায়েরকৃত প্রথম ফৌজদারি আর্জিতে মুথুসামি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন যে, অধিকার কর্মী অ্যান্ডি হল ২০২২ সালের ৬ই জানুয়ারি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বহুজাতিক বাণিজ্যিক কোম্পানি, সরকারি উচ্চপর্যায়ের বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক এনজিওসহ অন্তত ৪০ জন গুরুত্বপূর্ণ প্রাপককে একযোগে বিভ্রান্তিকর ইমেল প্রেরণ করেছিলেন। ওই বার্তাগুলোতে তিনি দাবি করেছিলেন যে, শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন সেবা সংস্থা এটিএ-তে একটি পরামর্শক পদের লোভ দেখিয়ে তাঁকে ঘুষ প্রদানের অপচেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ব্যবসায়িক ভাবমূর্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় সুদীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কালো তালিকাভুক্ত বিতর্কিত এই অধিকার কর্মীকে ইতোপূর্বেও দেশটির একটি উচ্চাদালত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। অ্যান্ডি হলের নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশটির প্রবাসী কর্মজীবী সম্প্রদায় এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বৃহৎ অংশের মাঝেও সুদীর্ঘদিন যাবত নানা প্রশ্ন ও সংশয় বিদ্যমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের ছোটখাটো শ্রম বিরোধে ইন্ধন জুগিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিষয়গুলোকে নেতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তোলেন; যার ফলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার সুসংহত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সম্ভাবনাময় বৈদেশিক শ্রমবাজার মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি হয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবাধিকারের বুলি আওড়ালেও সিঙ্গাপুরে প্রবাসীদের অতিমাত্রায় উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, মধ্যপ্রাচ্যে ভিসা জালিয়াতি কিংবা নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষার ন্যায় মৌলিক ইস্যুতে তাঁর নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

সূত্র: মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু হাইকোর্ট ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন