বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সংকল্প

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সংকল্প
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি মালয়েশিয়া এবং দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বজায় থাকা চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেশি সুসংহত, বিস্তৃত ও নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সভাকক্ষে আয়োজিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথভাবে এই আশাবাদ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার মান্যবর হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমান এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দ্বিপক্ষীয় এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রযুক্তিগত ও বৈশ্বিক শ্রমবাজার সংশ্লিষ্ট বহুবিধ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: মস্কোয় মার্কিন-রুশ গোপন বৈঠক নিয়ে মুখ খুললেন জেলেনস্কি

বৈঠকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমশক্তির বিপুল চাহিদার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়। মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান মালয়েশিয়ায় কর্মরত অনিবন্ধিত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রথাগত আইনি কাঠামোর আওতায় এনে দ্রুত নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উদাত্ত আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের সদ্য গ্র্যাজুয়েট হওয়া দক্ষ প্রকৌশলীদের জন্য মালয়েশিয়ার আধুনিক শিল্প ও উন্নত নির্মাণ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করা হয়। মালয়েশীয় হাইকমিশনার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশি পেশাজীবীদের মেধা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে দুই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ার বিশ্বমানের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা খাতের সার্বিক মানোন্নয়নে যৌথ উদ্যোগে বিশ্বমানের প্রযুক্তি সংবলিত আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে নীতিগত সম্মতি ব্যক্ত করা হয়।

উভয় দেশের পরিবেশবান্ধব টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণে নবায়নযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জি এবং আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশেষ করে সৌরশক্তি উৎপাদন, গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনার বিষয়টিতেও গভীর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া বিশ্ব ক্রীড়া খাতের অপার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে যৌথ অর্থায়নে আন্তর্জাতিক মানের খেলাধুলার সামগ্রী প্রস্তুতকারী কারখানা স্থাপন ও বিশ্ববাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপারেও দুই দেশের প্রতিনিধিরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিতে এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাঙ্গা রাখতে উভয় রাষ্ট্র যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন নির্মাণ সাইটে সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৫২৮ প্রবাসী

বর্তমান বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্পের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) আমদানি, স্থানীয়ভাবে সংযোজন এবং এর খুচরা যন্ত্রাংশ নির্মাণের মতো উদীয়মান শিল্পখাতে মালয়েশীয় বিনিয়োগ উৎসাহিত করার বিষয়টি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সাথে বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিকাশমান বিলিয়ন ডলারের হালাল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শক্তিশালী যৌথ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক হালাল সনদ ও উন্নত প্রযুক্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী বৈশ্বিক বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিদ্যমান ঘাটতি হ্রাস ও বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণের উদ্দেশ্যে উভয় দেশ প্রশাসনিক ও শুল্ক জটিলতা নিরসনে একযোগে কাজ করবে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, মালয়েশিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশের এক পরম বন্ধু ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী। দুই দেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বন্ধনকে ভবিষ্যতে আরও প্রবৃদ্ধি অর্জনমুখী করতে এই ধরনের রূপরেখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে। মালয়েশীয় হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করে জানান, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের এই টেকসই ও কৌশলগত যৌথ প্রয়াস দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও বাণিজ্যিক প্রসারে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতীয়মান হয়।

সূত্র: সচিবালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন