প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ঘটে গেছে এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। নিখোঁজের দীর্ঘ ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত রায়হান তালুকদার নামের এক কর্মকর্তার বস্তাবন্দি ও খণ্ডবিখণ্ড গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এই বর্বরোচিত ও অমানবিক হত্যাকাণ্ডের খবরে পুরো ময়মনসিংহ জেলা জুড়ে চরম চাঞ্চল্য, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকার উৎসুক হাজারো মানুষ দুর্ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ির চারপাশে ভিড় জমান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের বাসিন্দা রায়হান তালুকদার বিগত ২৪ জুলাই থেকে হঠাৎ করে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তা বিভাগে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২৪ জুলাই কাজের উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বের হওয়ার পর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সন্ধান করেও তার কোনো খোঁজ পাননি। দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও তার কোনো হদিস না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা দানা বাঁধতে থাকে।
আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলার সময় বজ্রপাতে গৃহবধূর করুণ মৃত্যু
অবশেষে রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সোয়াইতপুর এলাকায় নিহতের নিজ বসতবাড়ির একেবারে সীমানা সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত পুকুরে স্থানীয় এক পথচারী ও এলাকাবাসী পচা দুর্গন্ধ এবং ভাসমান একটি সন্দেহজনক ব্যাগ ও প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত তা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ সতর্কতার সাথে পুকুর থেকে দূর গন্ধযুক্ত ব্যাগ ও বস্তাটি ডাঙায় তুলে আনে। বস্তার মুখ ও ব্যাগ খুলতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে চরম বীভৎস দৃশ্য। দেখা যায়, নিখোঁজ রায়হান তালুকদারের মরদেহ কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে একাধিক ব্যাগে পুরে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন পানির নিচে থাকায় মরদেহের অধিকাংশ অংশ পচে গলে বিকৃত হয়ে যায়।
তাত্ক্ষণিকভাবে নিহতের পরিধেয় বস্ত্র ও শারীরিক অবয়ব দেখে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকৃত খণ্ডবিখণ্ড লাশটি রায়হান তালুকদারের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ সদস্য ও উপস্থিত জনতার সামনে স্বজনদের করুণ আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন নারকীয় ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দেখে স্থানীয় অধিবাসীরা শিউরে ওঠেন। অপরাধীরা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রমান লোপাটের উদ্দেশ্যে টুকরো করা দেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে রেখেছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে বিশ্বরেকর্ড গড়া ২০১ গম্বুজ মসজিদ: স্থাপত্যের এক অনন্য বিস্ময়
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ এবং সিআইডির সুরতহাল টিম ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য খণ্ডবিখণ্ড দেহাংশগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি সুপরিকল্পিত ও নির্মম হত্যাকাণ্ড। কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন ক্ষোভ থেকে সরকারি এই কর্মীকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত দল মাঠে নেমেছে। খুব দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে সরকারি কাস্টমস বিভাগের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার এমন নৃশংস পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী ও সহকর্মীরা। সোয়াইতপুর গ্রামসহ পুরো ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় এখন শুধুই শোকের মাতম এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার তীব্র দাবি। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আমরা এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি গভীর শোক ও দুখ প্রকাশ করছি এবং নিহতের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও সর্বোচ্চ মাকাম কামনা করছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।