প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
গাইবান্ধা সদর এলাকায় মাদক বিরোধী সুনির্দিষ্ট ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ক্যানাবিস বা গাঁজাসহ এক পেশাদার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এই সাঁড়াশি অভিযানে এক পঁচিশোর্ধ্ব ব্যক্তির ট্র্যাভেল ব্যাগ থেকে ১ দশমিক ৫ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৪৫ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২ আগস্ট) অপরাহ্নে আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে গোপন সূত্রে খবর আসে যে দাড়িয়াপুর থেকে গাইবান্ধা অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী যান বাহনে অবৈধ মাদকের চালান বহন করা হচ্ছে। প্রাপ্ত সংবাদের ওপর ভিত্তি করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের অন্তর্গত কুমারপাড়া এলাকার দাড়িয়াপুর-গাইবান্ধা প্রধান সড়কে একটি বিশেষ দল কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হকের সরাসরি নেতৃত্বে অভিযানকারী দল সেখানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচলকারী যানগুলোতে নজরদারি শুরু করে।
নজরদারির একপর্যায়ে ওই সড়ক দিয়ে আসা একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কর্মকর্তা ও সঙ্গীয় ফোর্সের সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেন। সিএনজিটি থামানোর পর তার ভেতরে থাকা যাত্রীদের তল্লাশি করা শুরু হয়। এ সময় যানটিতে যাত্রী হিসেবে উপবিষ্ট ফরিদ হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির আচরণে চরম অস্থিরতা ও অসঙ্গতি প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে তার কোলের ওপর রাখা একটি নেভি-নীল রঙের ট্র্যাভেল ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সাদা পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে শক্তভাবে মোড়ানো অবস্থায় ১ কেজি ৫০০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন: কিশোরগঞ্জে জাপা নেতা চুন্নুর তীব্র সমালোচনা করলেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী
ঘটনাস্থল থেকে আলামতসহ আটককৃত ব্যক্তি মো. ফরিদ হোসেন বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বুড়া মজুমদার (গানাবাড়ী) গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি পেশাদার উপায়ে দূরবর্তী এলাকা থেকে মাদক এনে স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তল্লাশি শেষ করে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ তালিকা তৈরি করে মাদকদ্রব্যগুলো সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর নির্ধারিত ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে থানা পুলিশের মাধ্যমে বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জেলার সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের সারপ্রাইজ চেকপোস্ট ও ঝটিকা উদ্ধার অভিযান সামনের দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।