সেনাপ্রধান কর্তৃক আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন

সেনাপ্রধান কর্তৃক আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে যুগোপযোগী শিক্ষা সম্প্রসারণ, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিকাশ এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে সুনাগরিক গড়ে তোলার প্রয়াস হিসেবে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাজধানীর অদূরে দৃষ্টিনন্দন জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামিক মূল্যবোধের এক মেলবন্ধন ঘটানোর লক্ষ্যে 'আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII)' এর শুভ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। ০৩ আগস্ট ২০২৬ ইংরেজি সোমবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এই সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সাধারণ শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় সিএনজি তল্লাশি করে দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক ১

রাজধানীর মূল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চত্বর উদ্বোধনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আধুনিক ভিডিও টেলিকনফারেন্সিং (VTC) প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রগুলোতেও একযোগে এই আধুনিক শিক্ষাবিস্তার কর্মসূচির সূচনা করেন। তিনি দেশের কৌশলগত ও প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঞ্চল—বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং যশোর সেনানিবাস বা সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিষ্ঠিতব্য আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শাখা সমূহের শুভ ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করেন। এর ফলে কেবল রাজধানী কেন্দ্রিক নয়, বরং দেশজুড়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও একযোগে সমান মানসম্পন্ন আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরির ইসলামিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা অবকাঠামো ছড়িয়ে দেওয়ার পথ সুগম হলো।

স্বাধীনতা উত্তর সময়কাল থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সীমান্ত রক্ষা বা সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই নয়, বরং শিক্ষা খাতের গুণগত মান বৃদ্ধি, সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি এবং মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ অর্জনে জাতীয় পর্যায়ে সবসময় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে কেবল ঐতিহ্যগত শিক্ষা যথেষ্ট নয়। আজকের যুগের শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কারিকুলামে পারদর্শী হতে হয়, অন্যদিকে তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে নৈতিক চরিত্র, শৃঙ্খলা ও মানবিক বোধে সমৃদ্ধ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই বিশেষ প্রয়োজন উপলব্ধি করে সেনাবাহিনী বহুল প্রশংসিত আন্তর্জাতিক 'ক্যামব্রিজ কারিকুলাম' নির্ভর ইংরেজি শিক্ষার সঙ্গে সুদৃঢ় ইসলামিক নৈতিকতা ও মূল্যবোধের এক চমৎকার সংমিশ্রণে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII) প্রতিষ্ঠা করেছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, এই বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি সাধারণ বিদ্যাপীঠ হিসেবে নয়, বরং আধুনিক জ্ঞানচর্চা, আদর্শিক প্রশিক্ষণ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ চর্চার এক অতুলনীয় শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। এখানে অধ্যয়নরত তরুণেরা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক জীবনদর্শন, সার্বিক শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে সক্ষম হবে। বিশ্বমানের মেধা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে এমন প্রজ্ঞাবান ও সুনাগরিক গড়ে তোলাই এই শিক্ষালয়ের মূল উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: অভয়নগরে ইয়াবা চুরির অপবাদে যুবককে অপহরণ ও নির্যাতন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশে এক আনন্দঘন উৎসবের সৃষ্টি হয়। উক্ত ঐতিহাসিক শুভ উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সেনাসদরের উচ্চপদস্থ প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারবৃন্দ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন সমূহের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) বৃন্দ, উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, নবগঠিত প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকমণ্ডলী এবং দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বশরীরে ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী প্রধানের এই দূরদর্শী পদক্ষেপকে সবাই সাধুবাদ জানান এবং এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন