প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ
চট্টগ্রাম জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সহিংস অপরাধীদের সমূলে উপড়ানোর লক্ষ্যে জেলা পুলিশ প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এবার বড় ধরনের সফলতা অর্জন করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। জোরারগঞ্জ থানাধীন ঐতিহ্যবাহী হিঙ্গুলী ইউনিয়নে সংঘটিত একটি অত্যন্ত নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক হত্যাচেষ্টার ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত দুই দুর্ধর্ষ আসামিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ তল্লাশি অভিযানে গোপন আস্তানা থেকে একটি আধুনিক বিদেশি পিস্তল এবং ৯ রাউন্ড তাজা বিপজ্জনক গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের ফলে এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান কর্তৃক আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে জোরারগঞ্জ থানাধীন হিঙ্গুলী ইউনিয়ন এলাকায় নাজিম নামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে একদল দুর্বৃত্ত। আক্রমণের সময় তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে অত্যন্ত গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। এতে ভুক্তভোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। পরবর্তীতে এই হিংসাত্মক ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের নির্দেশনায় জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং পুলিশের একটি বিশেষ চৌকস টিম গোপন সংবাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি মোঃ বোরহান এবং মোঃ রনিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারের পর আসামিদের থানা হেফাজতে নিয়ে নিবিড় ও কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ধৃত আসামিরা তাদের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র গচ্ছিত থাকার কথা স্বীকার করে এবং সেটির নিখুঁত অবস্থানের বর্ণনা দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের সততা নিশ্চিত করতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল আসামিদের সঙ্গে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে।
আরও পড়ুন: ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে প্রজেক্টাইল হামলা, বিদ্যুৎ ও নিয়ন্ত্রণহীন ট্যাংকার
আসামি মোঃ বোরহানের বসতঘরের সাথে লাগোয়া তার নিজস্ব মালিকানাধীন একটি ওয়ার্কশপে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চালান। সেখানে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ওয়ার্কশপের ধাতব ভাঁজকৃত শাটারের ভেতরের অংশে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি আধুনিক বিদেশি পিস্তল এবং ৯ রাউন্ড মারাত্মক তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ তাৎক্ষণিকভাবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাস্টডিতে নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃত এই ক্ষতিকর আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল, এর নেপথ্যে কোন অপরাধ চক্র বা কালো টাকার হাত রয়েছে কিনা এবং উক্ত অস্ত্র দিয়ে পূর্বে অন্য কোন সংগঠিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গভীর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যেকোনো ধরনের সহিংস অপরাধ দমনে তাদের অবস্থান একদম জিরো টলারেন্স। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তকারী অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, কাউকেই আইনের শাসন থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। জোরারগঞ্জ থানার এই ঝটিকা ও সফল আভিযানিক পদক্ষেপের পর স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে স্বস্তি ও শান্তির আমেজ ফিরে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ দমনে পেশাদারিত্ব ও সততার সাথে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরালো করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।