চট্টগ্রামে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৫ আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

চট্টগ্রামে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৫ আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকায় অপরাধ দমন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের উৎখাত এবং আলোচিত অপরাধের সাথে যুক্ত আসামীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যাপক আভিযানিক সাফল্য অর্জন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং সংশ্লিষ্ট থানা সমূহের একাধিক চৌকস দল পৃথক তিনটি সুনির্দিষ্ট স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচজন দুর্ধর্ষ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এসব অভিযানে অপরাধীদের আস্তানা ও তাদের হেফাজত থেকে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সরাসরি বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেশ কিছু প্রাণঘাতী দেশীয় ও বৈদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশী অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট দুটি আধুনিক বিদেশি পিস্তল, দুটি ফাঁকা ম্যাগাজিন, মোট ১১ রাউন্ড তাজা পিস্তলের গুলি, ৩ রাউন্ড ভারী কার্তুজ, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি এবং একটি বড় ধারালো ছোরা।

আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জে হত্যাচেষ্টা মামলার ২ আসামি গ্রেফতার, পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

অভিযানের প্রথম ধাপে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার মূল তদন্তে নতুন মোড় এনে দেয়। ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম নিজস্ব নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত দুই দুর্ধর্ষ আসামি দিদার ও আফসারকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে গ্রেফতারকৃত দুই আসামির দেওয়া চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ডিবি পুলিশ অভিযানে যায়। তাদের উদ্ধার করা তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ গোপন আস্তানা থেকে একটি আধুনিক বিদেশি পিস্তল, একটি মানসম্মত ম্যাগাজিন এবং বেশ কিছু তাজা পিস্তলের গুলি সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা সদস্যরা। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল রহস্য উন্মোচনে পুলিশ এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করে। গোপন সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল ওই হত্যাচেষ্টা মামলার দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আটককৃতদের সাথে নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আরও একটি বিদেশি তৈরি পিস্তল এবং ৯ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশের এই দ্রুত ও দূরদর্শী পদক্ষেপে জোরারগঞ্জ এলাকায় সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয়তা অনেকাংশে স্তব্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু

পাশাপাশি, হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের পেছনে দুর্দান্ত কৌশল অবলম্বন করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক থাকা এই শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পুলিশ বিভাগ ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত তাদের গোয়েন্দা জালের বিস্তৃতি ঘটায়। অতি গোপনে সুনির্দিষ্ট আস্তানায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চট্টগ্রামে ফেরত এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হলে আসামি নুরুল আজিম হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান দেয়। আসামির দেওয়া তথ্যের সততা নিশ্চিত করে পুলিশ অভিযান চালায় এবং মূল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ব্যবহার করা একটি দেশীয় এলজি (অস্ত্র) এবং একটি বড় ও ভারী ধারালো ছোরা উদ্ধার করে মামলাটির প্রধান আলামত হিসেবে জব্দ করে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, জেলায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও জনসাধারণের নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং যেকোনো সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে এ ধরনের আধুনিক ও গোয়েন্দাভিত্তিক নিরপেক্ষ কঠোর অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালানো হবে। কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়েছে। সফল এই একাধিক অভিযানে অস্ত্র ও আসামীদের গ্রেফতারের খবরে জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও পুলিশের প্রতি আস্থা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন