রাজবাড়ীতে ৯৯৯-এ কলে সাড় সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার

রাজবাড়ীতে ৯৯৯-এ কলে সাড় সাড়ে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

রাজবাড়ী জেলা জুড়ে মাদক বিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এবং সচেষ্ট নাগরিক ভূমিকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ নম্বরের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এক বিশাল মাদক চালান বানচাল করে দিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে ১ আগস্ট ২০২৬ ইংরেজি শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে, রাজবাড়ী সদর থানার অন্তর্গত উড়াকান্দা সংলগ্ন এলাকায়। জনৈক এক সচেতন নাগরিক তার এলাকাভিত্তিক অবস্থান থেকে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সতর্ক বার্তা প্রদান করেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয় যে, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় এক বা একাধিক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য বহন বা পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। তথ্যটি পাওয়ামাত্রই ৯৯৯ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বরত সদস্যরা কোনো প্রকার বিলম্ব না করে রাজবাড়ী সদর থানাকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ৫ আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

জরুরি সেবা নম্বরে কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলার টেকনিক্যাল ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল মো: জিয়াউদ্দিন বাবলু। তিনি দক্ষতার সাথে কলারের কাছ থেকে স্থান ও পরিস্থিতির নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ করেন এবং দ্রুততম সময়ে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের জরুরি পর্যবেক্ষণ ডেস্কে বার্তা منتقل করেন। একই সাথে বিষয়টির সার্বিক তদারকি ও পুলিশি টহল দলের সাথে সফলভাবে সমন্বয় সাধন করেছিলেন ৯৯৯ ডিসপ্যাচার পদে দায়িত্বরত এএসআই মাসুম বিল্লা। কন্ট্রোল রুম ও স্থানীয় থানা পুলিশের এই সমন্বিত ও চটজলদি ভূমিকার কারণেই অপরাধীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সুযোগ পায়নি।

৯৯৯ থেকে প্রাপ্ত অতি জরুরি তথ্যের তীব্রতা অনুধাবন করে রাজবাড়ী সদর থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) সোহেবুর রহমান এবং সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (এএসআই) মোঃ মোকছেদ আলী সঙ্গীয় চৌকস পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থল ও চিহ্নিত পয়েন্টে উপস্থিত হন। সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় করে যখন ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য অন্যত্র চালান করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই স্থানীয় সচেতন জনগণের প্রত্যক্ষ সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা সিএনজিটির গতিপথ রোধ করেন। গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ভেতর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকানো মোট ১১ কেজি ৫০০ গ্রাম অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চোরাচালানের সাথে জড়িত দুই চিহ্নিত ও পেশাদার মাদক কারবারিকে ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেফতারকৃত কুখ্যাত আসামিদের পরিচয় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, তাদের মধ্যে প্রথম জন হলেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা মো: রহম মালিথা ও মাতা জাহেরা খাতুনের ছেলে মো: ফারুক হোসেন (৪২)। আটককৃত দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন একই থানা ও জেলার সিরাজনগর এলাকার বাসিন্দা মো: উজির মালিথা ও মাতা কমেলা খাতুনের ছেলে মো: আজমত আলী (৩৫)। তিনি বর্তমানে রাজবাড়ী সদর থানাধীন উড়াকান্দা বাজার এলাকায় সাময়িকভাবে বসবাস করে মাদক কারবার পরিচালনা করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেফতারের পর উদ্ধারকৃত সাড়ে ১১ কেজি গাঁজা ও পাচারে ব্যবহৃত যানটি পুলিশ হেফাজতে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং আসামিদের সরাসরি থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুন: পাবনায় গৃহবধূকে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ডিবি পুলিশের হাতে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় আইনানুগ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই ধরণের আকস্মিক ও কঠোর তৎপরতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। সচেতন সমাজ মনে করছে, সাধারণ মানুষের সতর্ক দৃষ্টি এবং ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবার আধুনিক ও ক্ষিপ্র সংযোগ এভাবে অব্যাহত থাকলে দেশের অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। পুলিশ প্রশাসন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, অপরাধী বা মাদক কারবারি যত শক্তিশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই ধরণের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন