পাবনায় গৃহবধূকে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ডিবি পুলিশের হাতে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

পাবনায় গৃহবধূকে নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, ডিবি পুলিশের হাতে ৩ যুবক গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

পাবনা সদরে ঘটে গেছে এক নৃশংস ও দুঃসাহসিক অপরাধের ঘটনা। এক গৃহবধূকে নিজ বাসায় ঢুকে জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন, থমথমে পরিস্থিতিতে জঘন্য ভিডিও ধারণ এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একদল বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে। তবে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত চক্রটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে জালে তুলতে সক্ষম হয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল চক্রের ৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

আরও পড়ুন: হাটহাজারীর নুরুল আজিম হত্যার মূল ঘাতক দিদার ঢাকায় গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

পুলিশি সূত্রে পাওয়া বিবরণী থেকে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূচনা ঘটে গত ২৭ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে। পাবনা সদর উপজেলার মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযুক্ত যুবকেরা অস্ত্রশস্ত্র ও ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক অনাধিকার প্রবেশ করে। সেখানে অবস্থানরত গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে অপরাধীরা। এরপর অত্যন্ত নির্মমভাবে ভুক্তভোগীর বৃদ্ধা মা এবং কোলের অবোধ শিশুসন্তানকে অন্য একটি কক্ষে আলাদা করে আটকে রেখে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরিবারের লোকজনকে জিম্মি করার পর অপরাধী চক্রের একজন ভুক্তভোগী গৃহবধূর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এই বিভৎস দৃশ্যটি অপর দুই সহযোগী নিজ মোবাইলে ভিডিও আকারে ধারণ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় ও প্রাণভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার চরম ভেঙে পড়ে। পাশবিক নির্যাতন শেষেই ক্ষান্ত হয়নি অপরাধীরা; মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিওটি ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে বিশাল অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চরম ভয়ভীতি ও মানসম্মানের আশঙ্কায় ভুক্তভোগীর মা বাধ্য হয়ে ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আসামিদের হাতে তুলে দেন। টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর চক্রটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচারের আশায় পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় পাবনা জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় মামলাটির তদন্তভার ও অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি)। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে এবং অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়কে গরুর ট্রাক পুকুরে, ৯টি গরুর মৃত্যু

ডিবি পুলিশের হাতে ধৃত অভিযুক্তরা হলেন— পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের কাঁকড়কাটা গ্রামের অধিবাসী মাহামুদুল হাসান নাছিম (২৩), একই ইউনিয়নের কাঁকড়কাটা এলাকার তারেক রহমান (২২) এবং দোগাছী ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকার বাসিন্দা সাকিব হোসেন (২১)। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির প্রযোজ্য ধারায় পাবনা সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

পাবনার সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ধৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সর্বস্তরের অধিবাসীরা, যেন ভবিষ্যতে এমন অপকর্ম করার সাহস কেউ না পায়।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন