হাটহাজারীর নুরুল আজিম হত্যার মূল ঘাতক দিদার ঢাকায় গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

হাটহাজারীর নুরুল আজিম হত্যার মূল ঘাতক দিদার ঢাকায় গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: শামীম হোসাইন / শাহজাদপুর / দিগন্ত বাংলা নিউজ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মুহাম্মদ নুরুল আজিম (৪৮) হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনা ও রূপকার মোঃ দিদারুল আলম প্রকাশ দিদার (৪৭)-কে দীর্ঘ আত্মগোপনের পর শেষ রক্ষা ছাড়াই ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। রাজধানী ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকা থেকে পরিচালিত এক বিশেষ ও ঝটিকা অভিযানে তাকে জালে তোলে পুলিশ। পরবর্তীতে ধৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনাস্থল এলাকা থেকে নিহতের ওপর ব্যবহৃত তাজা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো ছোঁড়াসহ বিপুল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাঞ্ছারামপুরে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ঘটনার বিবরণী পর্যালোচনায় জানা যায়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকালে হাটহাজারী মডেল থানা এলাকার অন্তর্গত মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো শত্রুতার জেরে মুহাম্মদ নুরুল আজিমকে প্রকাশ্যে গুলি ছুড়ে এবং পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চরম নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই দিনই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ মোরশেদ প্রকাশ আকিল ও মোঃ আলী আকবর গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী দিদারুল আলম গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দিদারুল আলম চট্টগ্রাম শহরের বাকলিয়া, চট্টগ্রামের রাউজান, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকার বেশ কয়েকটি গোপন আস্তানায় অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে নজরদারিতে রাখে। দীর্ঘদিনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সরাসরি দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী থানার পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানার গাদাবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গত ২ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আত্মগোপনে থাকা দিদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশি হেফাজতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত দিদারুল আলম স্বীকার করে যে, জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই সে তার সহযোগী আকিলসহ অন্যদের নিয়ে অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে নুরুল আজিমকে হত্যার ছক কষেছিল। পরবর্তীতে আসামিকে হাটহাজারীতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার নিজ বসতবাড়ির পাশে অবস্থিত গোয়ালঘরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা একটি এলজি (অস্ত্র) এবং একটি বড় ধারালো ছোঁড়া আলামত হিসেবে উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: বগুড়ার ঠেঙ্গামারায় ডিবি পুলিশের স্পেশাল ড্রাইভ: অস্ত্র, মাদক ও নগদ টাকাসহ গ্রেফতার ২

পুলিশ রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দিদারুল আলম একজন দাগি ও অভ্যাসগত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মোট ১৩টি মামলা ঝুলছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ৬টি সাজা পরোয়ানা এবং একাধিক গ্রেপ্তারী পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। অন্যদিকে তার সহযোগী ধৃত মোরশেদের বিরুদ্ধে ৪টি অপরাধমূলক মামলা এবং ১ বছরের স্থগিত হওয়া সাজা পরোয়ানা বলবৎ ছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুশিয়ারি প্রদান করে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, জঘন্য সন্ত্রাসবাদ, মাদকের বিস্তার কিংবা সংঘবদ্ধ অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যত সুকৌশলেই আত্মগোপনে থাকুক না কেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সফল ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

Post a Comment

আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের জানান। কোনো উসকানিমূলক বা অশালীন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।

নবীনতর পূর্বতন